Ajker Patrika

ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ডের বিল চূড়ান্ত ভোটের পথে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ২২: ৪২
ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ডের বিল চূড়ান্ত ভোটের পথে
ইসরায়েলের বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল বিতর্কিত এই আইনটি প্রস্তাব করেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট-এ ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার একটি বিতর্কিত বিল চূড়ান্ত ভোটের দিকে এগোচ্ছে। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি বিলটি অনুমোদন দেওয়ার পর এটি এখন শেষ ধাপের ভোটে যাচ্ছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিতর্কিত এই আইন প্রস্তাব করেছে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী দল ওৎজমা ইয়েহুদিত। এই দলেরই নেতৃত্বে আছেন ইসরায়েলের বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। প্রস্তাবটি সামনে আসার পর থেকেই দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি ইসরায়েলের শাস্তি ব্যবস্থায় বড় ধরনের কঠোরতা ও বৈষম্য তৈরি করবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী—সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে এবং সাজা ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্তদের আলাদা কারাগারে রাখা হবে, যেখানে সরাসরি সাক্ষাৎ সীমিত থাকবে এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগও হবে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে। এমনকি আদালত প্রসিকিউটরের আবেদন ছাড়াই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক আদালতগুলোও এই শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা পাবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে আপিল বা ক্ষমার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলও এই বিল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইন জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করবে এবং নির্যাতনমূলক শাস্তির শামিল হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও মৃত্যুদণ্ডকে মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের সামরিক ও বিচার বিভাগীয় মহলের কিছু অংশ সতর্ক করেছে, এই ধরনের আইন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং বিদেশে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলে মৃত্যুদণ্ড অত্যন্ত বিরল এবং ইতিহাসে মাত্র দুবার তা কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। নতুন এই বিল পাস হলে দীর্ঘদিনের সেই নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত