Ajker Patrika

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ৩১, বিস্তৃত হচ্ছে স্থল অভিযান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ১৩: ৫১
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ৩১, বিস্তৃত হচ্ছে স্থল অভিযান
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ শহরে মঙ্গলবার ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ছবি: এএফপি

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের স্থল অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মঙ্গলবারের হামলায় আরও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তায়ারের কাছে বুর্জ আল-শামালিতে ১৪ জন, কাওথারিয়াত আল-রিজে পাঁচজন, হাব্বুশে চারজন, মারাকেহতে ছয়জন এবং সালায় দুজন নিহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদক জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ শহরে মঙ্গলবার ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালের পাশে হামলা চালায়। এতে ওই হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবারের এই হামলার আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের অন্তত ৫০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে নাবাতিয়েহ শহরও রয়েছে।

এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, সেনারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে অভিযান শুরু করেছে। এই সীমারেখা ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।

এদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা নাবাতিয়েহ শহরের উপকণ্ঠের জাওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের প্রতিহত করেছে।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, বিমান হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণের পর মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী শহরটিতে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংগঠনটি ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন ও রকেট হামলারও দাবি করেছে।

পূর্ব লেবাননের পশ্চিম বেকা অঞ্চলের মাশঘারা শহরে গত সোমবারও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই কন্যাশিশু ও এক নারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এখনো চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, মাশঘারা এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরফা শহরে একটি হামলায় স্থানীয় উদ্ধারকর্মী সংগঠন রিসালা স্কাউটসের এক সদস্য নিহত ও আরও দুজন আহত হয়েছেন। সংগঠনটি হিজবুল্লাহ-সমর্থিত আমাল আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর ফলে চলমান সংঘাতে নিহত উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২১ জনে।

লেবাননের বৃহত্তম বাঁধ কারাউন ড্যামের কাছেও একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। লিতানি নদী কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, বাঁধে সরাসরি হামলা হলে ভয়াবহ মানবিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে একটি সামরিক ব্যারাকে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কয়েকটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননে তাঁদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্থলভাগে বড় আকারে অভিযান চালাচ্ছে। উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করছি।’

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন ইউনিফিল জানিয়েছে, সোমবার তারা লেবাননের আকাশসীমায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ৯১টি ঘটনা শনাক্ত করেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর এটি সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া ইউনিফিল জানিয়েছে, সোমবার ইসরায়েলি বাহিনীর ৩৯৯টি গোলা ও হিজবুল্লাহর ১১টি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। লেবাননের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত