Ajker Patrika

২ মাস ২৮ দিন ব্ল্যাকআউটের পর ইরানে চালু হলো ইন্টারনেট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
২ মাস ২৮ দিন ব্ল্যাকআউটের পর ইরানে চালু হলো ইন্টারনেট
ছবি: এএফপি

ইরানে টানা ৮৮ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দেশটিতে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু হতে শুরু করেছে। বিগত দিনগুলোতে ইন্টারনেট না থাকার কারণে ইরানে হাজারো মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায় লোকসান গুনেছেন। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে পুরো পৃথিবী থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে জনগণের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

মঙ্গলবার (২৬ মে) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার পর থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ আংশিকভাবে ফিরতে শুরু করে। ওয়েব ট্রাফিক পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান নেটব্লকস জানিয়েছে, ২ হাজার ৯৩ ঘণ্টা ধরে ইরান কার্যত বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, যা কোনো দেশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত দীর্ঘতম ব্ল্যাকআউট হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জিমেইল সেবার পুনরায় চালু হওয়াকে এই পরিবর্তনের প্রথম দৃশ্যমান ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন। শুরুতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু আবাসিক ফাইবার নেটওয়ার্ক ও মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সীমিত সংযোগ চালু হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারনেট বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেন্টিকের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইন্টারনেট সংযোগ এখনো স্বাভাবিক অবস্থার ১০ শতাংশেরও কম। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞ ডগ ম্যাডোরি বলেন, এখন পর্যন্ত সংযোগ পুনঃস্থাপন ‘বেছে বেছে’ করা হচ্ছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নির্বাচনী প্রচারে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিধিনিষেধ শিথিলের পক্ষে চাপ দেন। পরে সাইবার ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্সের ভোটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

ইরানের যোগাযোগমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতা ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন ব্যবসা এবং সেবা খাতে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন— এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, দক্ষ জনশক্তির দেশত্যাগ এবং বিকল্প অনিয়ন্ত্রিত যোগাযোগব্যবস্থা বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হতো।

তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে অবাধ যোগাযোগ নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দিতে পারে। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই বিদেশি স্যাটেলাইট চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সরকারবিরোধী প্রচারণার জন্য দায়ী করে। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, ইন্টারনেট দমনমূলকভাবে বন্ধ রেখে সরকার বিক্ষোভ দমন ও বিচারিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য আড়াল করতে চেয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত সপ্তাহে জানায়, চলমান সংঘাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে ইরানে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আরও অন্তত ৭৮ জন মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে প্রায় ৫০ লাখ চাকরি সরাসরি ইন্টারনেটনির্ভর। ফলে ব্ল্যাকআউট দেশটির চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যও বহু পরিবারের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার নারী কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও ইউটিউব বহুদিন ধরেই ইরানে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। তবে অধিকাংশ মানুষ ভিপিএনের মাধ্যমে এসব ব্যবহার করে থাকেন। একই সঙ্গে দেশটিতে অ্যান্টি-ফিল্টারিং প্রযুক্তিরও বড় বাজার গড়ে উঠেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত