Ajker Patrika

ইরানি অর্থনীতির শ্বাসরোধের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, ১০ প্রতিষ্ঠান ও ৮ ট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানি অর্থনীতির শ্বাসরোধের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, ১০ প্রতিষ্ঠান ও ৮ ট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা
ছবি: এএফপি

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল বুধবার তারা ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। হরমুজ প্রণালি থেকে অর্থ উপার্জনের যে চেষ্টা ইরান চালাচ্ছে, সেটিকে রুখতেই ১০টি প্রতিষ্ঠান ও আরও আটটি ট্যাঙ্কারের ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টির অবস্থানই চীনে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হস্তে দমন ও শক্ত হাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তার পরপরই এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত এল।

এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ছোঁড়া বেশ কয়েকটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। এরই মধ্যে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) মূলত দুটি সংস্থাকে টার্গেট করেছে। সেগুলো হলো—পার্সিয়ান গলফ মেরিন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং হরমুজসেফ মেরিন সার্ভিসেস অথরিটি। অভিযোগ উঠেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলোকে বিভিন্ন বিমা পলিসি নিতে বাধ্য করে ডিজিটাল সম্পদ ও বিপুল অর্থ চুষে নেওয়ার ছক কষেছিল ইরান। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি ছিল এই দুটি প্রতিষ্ঠান।

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তীব্র কণ্ঠে বলেন, ‘অর্থনীতি খাদে গিয়ে পড়েছে, মূল্যস্ফীতি পৌঁছে গেছে তিন অঙ্কে—এই অবস্থায় নগদ টাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এই শাসকগোষ্ঠী।’ ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যকে জিম্মি করা কিংবা আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহনকে ব্যবহার করে আইআরজিসির সন্ত্রাস, আগ্রাসন ও নিপীড়নের রসদ জোগানোর সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনোভাবেই দেবে না।’

ইরানের ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করতে এবং নিজের জনপ্রিয়তায় ধস নামানো এই চরম অপ্রিয় যুদ্ধের ইতি টানতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন অর্থনৈতিক চাপ আর সামরিক আঘাত—দুটোকেই একসূত্রে বেঁধে এগোতে চাইছে; এই নতুন নিষেধাজ্ঞা সেই কৌশেরই অংশ।

ডিজিটাল ব্যাংক কলামের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ওএফএসির সাবেক কর্মকর্তা জেস হোভারসেনের মতে, ‘ইরান যুদ্ধ পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে এই প্রশাসন মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে একদম পাশাপাশি রেখে ব্যবহার করবে।’ তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন একের পর এক হামলা জোরদার করছে, ওএফএসি-ও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সামুদ্রিক লজিস্টিকস, মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা এবং কেনাকাটার নেটওয়ার্কগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনছে।

হোভারসেনের ভাষায়, মার্কিন ‘অর্থ মন্ত্রণালয় এখন পূর্ণ সামরিক গতিতে কাজ করছে। সামরিক হামলার পাশাপাশি এমন নিশানাভিত্তিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা হয়তো ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধের জন্যই এক নতুন মডেল হয়ে থাকবে।’

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে তেলের টাকা সচল রাখতে ইরান যেসব ছায়া জাহাজ বহর (শ্যাডো ফ্লিট) ব্যবহার করে আসছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সেই বহরের ১০০ টিরও বেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওএফএসি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত