Ajker Patrika

ইরানের বিক্ষোভে এক কিশোরীর শেষ প্রতিরোধের খবর প্রকাশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৫০
ইরানের বিক্ষোভে এক কিশোরীর শেষ প্রতিরোধের খবর প্রকাশ
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ১৬ বছর বয়সী ইয়ালদা মোহাম্মদখানি। ছবি: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছর বয়সী ইয়ালদা মোহাম্মদখানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিল। গত ৯ জানুয়ারি তেহরানে মুখোশধারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মোটরসাইকেলে করে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করলে পরিবারের সঙ্গে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হয় ইয়ালদা। বুধবার (২৯ জুলাই) সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বরাতে তাঁর শেষ প্রতিরোধ ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ইয়ালদা ছিল বিক্ষোভকারীদের সামনের সারিতে। সে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের একটি ক্যানিস্টারও লাথি মেরে সরিয়ে দিতে দেখা গিয়েছিল তাকে। অভয় দিচ্ছিল অন্য বিক্ষোভকারীদের।

সেদিন টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল ইয়ালদা। এর আগের দিন ৮ জানুয়ারি সে তেহরানের পশ্চিমে ফারদিসের কানাল এলাকায় বাবা ও ছোট বোনের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। অতিরিক্ত কাঁদানে গ্যাসে তার বাবার চোখ জ্বালা করায় সেদিন তারা বাড়ি ফিরে যায়।

পরদিন বিকেল ৪টার দিকে ইয়ালদা পরিবারকে তাগাদা দেয়, আবার রাস্তায় ফেরার সময় হয়েছে। সে বলেছিল, ‘আমাদের প্রস্তুত হয়ে আবার রাস্তায় ফিরতে হবে। আমাদের বিক্ষোভে যোগ দিতে হবে।’ এবার পরিবারের চার সদস্যই একসঙ্গে বের হয়।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে ইয়ালদা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে সে অন্যদের বলে, ‘ভয় পেয়ো না। ওরা সংখ্যায় বেশি নয়।’

এরপর মোটরসাইকেলে করে মুখোশধারী নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক সদস্য এসে গুলি চালান। একটি গুলি ইয়ালদার পায়ে লাগে। বাবাকে সে বলে, ‘আমার পা জ্বলছে। আমি হাঁটতে পারছি না।’ বাবা তাকে ধরে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির মধ্যে মেয়েকে আড়াল করতে নিজের শরীর ব্যবহার করেন তিনি। কিন্তু পরক্ষণেই ফিরে তাকিয়ে দেখেন, ইয়ালদার মুখ রক্তে ঢেকে গেছে।

পরিবারের দাবি, পেছন থেকে ছোড়া আটটি গুলি ইয়ালদার পিঠ ও কাঁধে লেগেছিল। বাবা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ইয়ালদার মরদেহ পাঁচ দিন পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারকে স্মরণসভা না করার জন্য সতর্ক করা হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পরিবর্তে বিক্ষোভকারীদের হাতে ইয়ালদা নিহত হয়েছে—এমন বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়। তবে পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে।

ইয়ালদার মোবাইল ফোনের কভারের পেছনে ছিল ২০২২ সালের বিক্ষোভে নিহত আরেক ১৬ বছর বয়সী কিশোরী নিকা শাকারামির ছবি। মেয়ের কিছু হলে কীভাবে তাঁরা তা সহ্য করবেন—বাবা-মা জানতে চাইলে ইয়ালদা বলেছিল, ‘নিকার বাবা-মা কী করেছিলেন? তোমরাও তা-ই করবে। আমি স্বাধীনতা ও আরও ভালো ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় যাচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত