Ajker Patrika

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, জানিয়ে দিল সৌদি ও পাকিস্তান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, জানিয়ে দিল সৌদি ও পাকিস্তান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘স্পষ্ট এবং অপরিবর্তনযোগ্য পথ’ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না সৌদি আরব। দেশটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদের এই কঠোর ও অনড় অবস্থানের বিষয়টি সামনে এলো। ইরানের সঙ্গে একটি সামগ্রিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব তার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানেই অবিচল রয়েছে। রিয়াদের নীতি অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি অবশ্যই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে হবে।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশগুলো ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি)-এ যোগ দেবে বলে তিনি আশা করেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যদি এই কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে এমন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে যা হবে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী’।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের নভেম্বর মাসে এক বৈঠকে ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন।

সিএনএন-এর সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবের জবাবে ক্রাউন প্রিন্স স্পষ্ট করে বলেন, সৌদি আরব এই ঐতিহাসিক চুক্তির অংশ হতে আগ্রহী। তবে এর জন্য শর্ত হচ্ছে—একটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।

মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও শর্ত তৈরি করতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও বলেছেন, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে ইসলামাবাদের নতি স্বীকার করা উচিত নয়। সামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাব পাকিস্তানের ‘মৌলিক আদর্শের’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সামা টিভির একটি টক শো-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না যে আমাদের এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত যা আমাদের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭-পূর্ববর্তী সীমানার ওপর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর দেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ৭৮ বছরের ইতিহাসে ইসলামাবাদ কখনো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি এই কারণে পাকিস্তানি নাগরিকেরা দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরায়েলে ভ্রমণ করতে পারেন না।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের জন্য চাপ সৃষ্টি করলেও, ফিলিস্তিন সংকটকে উপেক্ষা করে সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশের কাছ থেকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি আদায় করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত