
ইরানের দুর্গম ও বৈরী পাহাড়ি অঞ্চলে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে এক অবিশ্বাস্য অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে মার্কিন স্পেশাল ফোর্স। গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস হওয়ার পর এমন এক উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান প্রত্যক্ষ করল বিশ্ব।
গত শুক্রবার দক্ষিণ ইরানের আকাশে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানের পাইলট ও ব্যাক-সিটে থাকা ওয়েপন সিস্টেম অফিসার—দুজনেই আকাশেই সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। পাইলটকে ওই দিনই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্য অর্থাৎ অফিসারটি নিখোঁজ হয়ে যান।
ইরান সরকার এই মার্কিন সেনাকে তাদের জন্য বড় ‘ট্রফি’ হিসেবে গণ্য করে এবং তাঁকে জীবিত ধরার জন্য ৬৬ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু অনির্ভরযোগ্য ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) এবং স্থানীয় সশস্ত্র বেসামরিক লোকজন পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে হন্যে হয়ে ওই অফিসারকে খুঁজছে। মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, শত্রুপক্ষ প্রতি ঘণ্টায় পাইলটের লুকানোর জায়গার আরও কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল।
মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে সিআইএ পর্দার আড়ালে থেকে মূল মগজ হিসেবে কাজ করেছে। পাইলট যখন একটি পাহাড়ের অন্ধকার খাঁজে লুকিয়ে ছিলেন এবং তাঁর কাছে আত্মরক্ষার জন্য ছিল কেবল একটি সাধারণ হ্যান্ডগান, তখন সিআইএ ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাঁর ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালায়।
পাইলটকে বাঁচানোর জন্য সিআইএ একটি সূক্ষ্ম ‘ডিসেপশন ক্যাম্পেইন’ বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালায়। তারা ইরানের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে খবর ছড়িয়ে দেয় যে, মার্কিন কমান্ডোরা ইতিমধ্যেই পাইলটকে খুঁজে বের করে নিয়ে গেছে। এই মিথ্যা খবরের ফলে ইরানি বাহিনীর নিবিড় তল্লাশি অভিযান সাময়িকভাবে স্তিমিত হয়ে পড়ে, যা উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুতির জন্য মূল্যবান সময় উপহার দেয়।
চূড়ান্ত অভিযান: বোমাবর্ষণ ও উদ্ধার নাটকীয়তা
শনিবার দিবাগত রাতে কয়েক ডজন বিশেষ বাহিনী, কয়েক স্তরের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার নিয়ে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান। পাইলট নিজে তাঁর বিকন সিগন্যাল খুব সীমিতভাবে ব্যবহার করছিলেন যাতে ইরানি সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স তাঁকে খুঁজে না পায়।
মার্কিন স্পেশাল ফোর্স যখন পাহাড়ের ওই দুর্গম খাঁজের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা ইরানি সৈন্যদের পিছু হটাতে আকাশ থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের বয়ান অনুযায়ী, অভিযানের সময় বড় ধরনের বিপত্তি ঘটে যখন একটি রিমোট বেস থেকে উড্ডয়ন করতে গিয়ে দুটি মার্কিন পরিবহন বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। শত্রুপক্ষের হাতে এই উন্নত প্রযুক্তি যাতে না পড়ে, সে জন্য মার্কিন বাহিনী নিজেরাই সেই বিমান দুটি ধ্বংস করে দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনটি অতিরিক্ত বিমানের সহায়তায় পাইলট ও পুরো উদ্ধারকারী দলকে নিরাপদে কুয়েতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি এই অভিযানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে একটি বিমান হারানো কেবল আর্থিক ক্ষতি, কিন্তু কোনো সেনাকে শত্রুর এলাকায় একাকী ফেলে না আসার যে সামরিক ঐতিহ্য আমেরিকা শত বছর ধরে লালন করছে, তা রক্ষা করা ছিল আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।’
বর্তমানে উদ্ধারকৃত পাইলটকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুয়েতে রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ‘গুরুতর আহত’ হলেও তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। অন্যদিকে, ইরান এই পুরো অভিযানকে একটি ‘ব্যর্থ মিশন’ বলে দাবি করছে। তারা দাবি করছে, একটি মার্কিন ড্রোন ও বেশ কিছু বিমান তারা ভূপাতিত করেছে। ইরান দাবি করেছে, দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে সেটি মিথ্যা গল্প। তবে পেন্টাগন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চীনের সম্ভাব্য শক্তি প্রদর্শন আর দূরের আশঙ্কা নয়, বরং ধীরে ধীরে বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাড়তে থাকা উত্তেজনা হরমুজ প্রণালিকে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন ভারতীয় বিশ্লেষক সৌরভ মুখার্জি।
৩৯ মিনিট আগে
হরমুজ প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। আজ সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমন ঘোষণা দিয়েছে ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ড। প্রণালিটি তখনই উন্মুক্ত করা হবে, যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আরোপিত যুদ্ধের কারণে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য উঠে আসবে সেখান দিয়ে যাতায়াত করা নৌযানের ফি থেকে।
১ ঘণ্টা আগে
ইরান এখনো এমন এক হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ধরে রেখেছে, যেগুলো ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। এমনটাই বলছে ইসরায়েলি সামরিক মূল্যায়ন। অন্যদিকে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার স্বল্পপাল্লার রকেট। ইসরায়েলের সঙ্গে সীমান্ত থাকায় এগুলো এখনো দেশটির জন্য বড় হুমকি।
২ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল রোববারের এই হামলায় উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছে এবং এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে