
যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি চুক্তি সই এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর আগামী সপ্তাহে তেহরান সফরে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। সফরকালে তিনি ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন সহযোগিতা খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবেন বলে জানিয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। খবর লন্ডন থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাত।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে জাইদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় এবং জাইদিকে একজন ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের একজন বড় সমর্থক।
ওয়াশিংটন সফরে ইরাক প্রায় ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারত্বে স্বাক্ষর করে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে, যার বড় অংশই জ্বালানি ও তেল খাতসংক্রান্ত। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে নতুন তেল রপ্তানি রুট এবং সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে ইরাকি তেল পরিবহনের লক্ষ্যে সিরিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়। ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে এ বছর ক্ষমতায় আসেন। তিনি ইরাকের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসা ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বলেন, ‘আমাদের একটি অভিন্ন ভাষা রয়েছে, আর সেটি হলো অর্থনীতি।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘ঠিকাদার’ হিসেবে নয়, বরং ইরাকের সার্বিক উন্নয়নের অংশীদার খুঁজতে গিয়েছেন। তার মতে, সেপ্টেম্বরের শেষে ইরাক থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে।
সফরের আগে জাইদি আরও বলেন, সেপ্টেম্বরের পর ইরাকে আর ‘প্রতিরোধ’ ধারণার প্রয়োজন থাকবে না, কারণ ‘প্রতিরোধ কোনো পেশা নয়, বরং অতীতের পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট একটি প্রয়োজন।’ জাইদির এই অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী ও তাদের ইরাকি মিত্রদের সমালোচনার মুখে পড়ে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ইরাকের দরজা খুলে দেওয়া দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
সমালোচনা এসেছে তেহরান থেকেও। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়াতি জাইদিকে ‘অনভিজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করেন। ফারহিখতেগান পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অল্প সময় পর ট্রাম্পের সঙ্গে জাইদির সাক্ষাৎ ছিল ‘একটি বড় লজ্জা।’
পর্যবেক্ষকদের মতে, জাইদিকে ঘিরে এই বিতর্ক ইরাককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার প্রতিফলন। একদিকে বাগদাদ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাইছে, অন্যদিকে তেহরান তার ঐতিহ্যগত প্রভাব ধরে রাখতে সচেষ্ট। বিশ্লেষক ইয়াদ আল-সামাওয়ি বলেন, বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো শুধু তেলের সম্ভাবনা দেখে বিনিয়োগ করে না; তারা নিরাপত্তা, স্থিতিশীল আইনব্যবস্থা, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বচ্ছ প্রশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশকেও সমান গুরুত্ব দেয়। তার মতে, ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর সফলতা নির্ভর করবে ইরাকি রাষ্ট্র এসব শর্ত কতটা নিশ্চিত করতে পারে, তার ওপর।
আশারক আল-আওসাতকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের এক সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, জাইদির বিরুদ্ধে চলমান প্রচারণা কেবল রাজনৈতিক বিরোধ নয়; বরং তাঁর অর্থনৈতিক উন্মুক্তকরণ নীতি ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগকে ধীর করার প্রচেষ্টা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতা দূর না হলে বড় মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলার মুখে ইরান পাল্টা আঘাত হানছে ঠিকই, কিন্তু তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে। মার্কিন নৌ-বহর বা ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা না চালিয়ে কেন ইরান এই কৌশলী পথ বেছে নিয়েছে...
৯ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ভয়াবহ ও অনিশ্চিত মোড় নিয়েছে। আজ সোমবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ঘোষণা দিয়েছে, তারা সৌদি আরবের ওপর একটি নৌ অবরোধ আরোপ করছে। হুতিদের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাতকে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে...
৯ ঘণ্টা আগে
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন হামাস তাদের নতুন রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে নির্বাচিত করেছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যেই অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংগঠনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসীন হন।
১০ ঘণ্টা আগে
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের উদ্যাপন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সালামাঙ্কা প্রদেশে বিজয় উদ্যাপনের সময় একটি ফোয়ারার অংশ ধসে পড়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
১০ ঘণ্টা আগে