
ভেনেজুয়েলায় এক শতাব্দীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের পর এবার আগামী এক সপ্তাহজুড়ে দেশটিতে নতুন করে শক্তিশালী ‘আফটারশক’ বা পরবর্তী কম্পন আঘাত হানার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, প্রথম ধাক্কায় লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া রাজধানী কারাকাসসহ ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে আগামী দিনগুলোতে রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী কম্পন পুনরায় আঘাত হানতে পারে, যার আশঙ্কা ৯০ শতাংশেরও বেশি।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ডিয়েগোর প্রখ্যাত ভূপদার্থবিদ বাশান রাইট আল জাজিরাকে জানান, ভেনেজুয়েলা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে আগামী এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম আফটারশক অনুভূত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের ঐতিহাসিক জ্ঞান এবং পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, আগামী সপ্তাহে ৩ এবং ৪ মাত্রার কিছু আফটারশক হওয়ার ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ৫ মাত্রার মতো মাঝারি থেকে শক্তিশালী আরেকটি কম্পন আঘাত হানার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের ওপর।’
তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও ৭ বা ৬ মাত্রার মতো অতি উচ্চমাত্রার বড় কোনো ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাইট আরও জানান, বুধবারের দ্বিতীয় কম্পনটির শক্তি ছিল প্রায় ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) টন টিএনটি (TNT) বারুদ বিস্ফোরণের সমতুল্য, যা একটি ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে প্রায় ১৮০ গুণ বেশি শক্তি নির্গত করেছে। ইতিমধ্যে মূল কম্পনের পর ২০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী সপ্তাহে সম্ভাব্য এই আফটারশকগুলোর কারণে কারাকাসে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে, যার পেছনে রয়েছে এই অঞ্চলের অনন্য ভৌগোলিক ট্র্যাজেডি। কারাকাস মূলত একটি গভীর পলল অববাহিকার (sediment basin) ওপর অবস্থিত। এই পলিমাটি সমৃদ্ধ অববাহিকাটি ভূপূষ্ঠের গভীর থেকে উঠে আসা ভূকম্পন তরঙ্গকে (seismic waves) প্রবর্ধিত করে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে যেকোনো মৃদু আফটারশকও এখানে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
ইউএসজিএস তাদের প্রাথমিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এই দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি অত্যন্ত ব্যাপক এবং তা বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটির অনুমান, নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধসও শুরু হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহতের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ডিয়েগোর ভূপদার্থবিদ বাশান রাইট আল জাজিরাকে আরও জানান, আজ সকালে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দ্বিতীয় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি প্রায় ১০ কোটি টন ট্রাইনাইট্রোটলুইন বা টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য ছিল।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, কারাকাসের অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এই অঞ্চলের আশপাশের ক্ষয়ক্ষতি বিশেষভাবে মারাত্মক হয়েছে। কারাকাসে একটি গভীর পলল অববাহিকা (sediment basin) রয়েছে, যা ভূপৃষ্ঠের গভীর থেকে উঠে আসা ভূকম্পন তরঙ্গকে (seismic waves) আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যখনই প্রচুর পলিমাটি সমৃদ্ধ এই ধরনের অববাহিকা থাকে, তখন ভূকম্পন আরও প্রবর্ধিত বা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
১৮২১ সালের একটি ঐতিহাসিক সামরিক বিজয়কে স্মরণ করে ভেনেজুয়েলায় এদিন সরকারি ছুটি চলছিল। স্পেনের কাছ থেকে দেশটির স্বাধীনতা নিশ্চিত করার এই উৎসবে মানুষ যখন ঘরে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহুতল ভবনগুলো ধসে পড়তে শুরু করে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
কারাকাসের ৫৪ বছর বয়সী ব্যাংক কর্মকর্তা ওদালিস এসকালোনা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘সিঁড়িগুলো মূল কাঠামো থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছিল, পুরো দেয়ালে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছিল। ছাদ থেকে সব জিনিসপত্র নিচে পড়ে যাচ্ছিল। এটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।’
পশ্চিম কারাকাসের ৪১ বছর বয়সী পাবলিসিস্ট আস্ট্রিড রামিরেজ রয়টার্সকে বলেন, ‘ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মানুষের চিৎকার শুনতে পাই। সবাই অ্যাপার্টমেন্টের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার জন্য হুড়োহুড়ি করে দৌড়াচ্ছিল।’
রাজধানী কারাকাসের অভিজাত আলতামিরা এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁয় ঠাসা এই অঞ্চলের একটি ২২ তলা আবাসিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন সম্পূর্ণ ধসে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে মানুষের জামা-কাপড় এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উঁকি দিচ্ছে। জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সেখান থেকে অনেককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের বাইরে আটকে পড়া মানুষের স্বজনদের আকুল চিৎকার এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য টর্চলাইট চেয়ে মানুষের আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এক শতাব্দীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে চরম হাহাকার ও ধ্বংসস্তূপের চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে দুর্যোগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
৩৫ মিনিট আগে
ভেনেজুয়েলায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই তীব্র কম্পনে ওলটপালট হয়ে গেছে রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির একাধিক রাজ্য।
২ ঘণ্টা আগে
ভেনেজুয়েলায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই তীব্র কম্পনে রাজধানী কারাকাসসহ দেশজুড়ে ভয়াবহ আতঙ্ক ও ধ্বংসযজ্ঞ তৈরি হয়েছে। এই বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ভেনেজুয়েলার...
২ ঘণ্টা আগে
ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এর একটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং অন্যটির ৭ দশমিক ৫। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। জোড়া ভূমিকম্পের পর বিস্তীর্ণ এলাকা...
২ ঘণ্টা আগে