Ajker Patrika

নকশালরা জঙ্গল থেকে নিশ্চিহ্ন হলেও চেতনায় রয়ে গেছে: নরেন্দ্র মোদি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নকশালরা জঙ্গল থেকে নিশ্চিহ্ন হলেও চেতনায় রয়ে গেছে: নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: এক্স

ভারতের ছত্তিশগড়ের বস্তারে নকশালবিরোধী অভিযানে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাওবাদী বা নকশাল হুমকির বিরুদ্ধে কয়েক দশকের দীর্ঘ লড়াইয়ে ভারতের অভূতপূর্ব জয়ের পর এটিকে দেশের প্রথম ‘নকশালমুক্ত দীপাবলি’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

তবে সশস্ত্র নকশালরা বন-জঙ্গল থেকে নির্মূল হলেও ‘দিমাগি নকশাল’ বা চেতনায় নকশাল, এমন হুমকি এখনো রয়েছে এবং তারা নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্থায় অনুপ্রবেশ করছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

রোববার (৮ অক্টোবর) ছত্তিশগড়ের বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর মাঝে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, দীর্ঘ ৪৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম গত এক বছরে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) কোনো সদস্য দায়িত্ব পালনকালে শহিদ হননি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘২০২৬ সালের এই দীপাবলি সত্যিই বিশেষ। মাওবাদী সন্ত্রাস ও নকশালবাদের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের টানা লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার পর এটি আমাদের প্রথম দীপাবলি। দেশের প্রতিটি জেলা আজ নকশালমুক্ত এবং কোটি কোটি নাগরিক এই ভীতি থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু সশস্ত্র নকশালরা শেষ হলেও ‘দিমাগি নকশালরা’ (চেতনায় নকশাল) বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তারা এখনো মানুষকে সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংস্থায় অনুপ্রবেশ করা এই মতাদর্শগত নকশালদের চিহ্নিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী গত বছর প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশাল শব্দটি ব্যবহার করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও অধিকারকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের বাগ্‌যুদ্ধ চলছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং এর সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে অবৈধ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ তোলেন। তিনি বেঙ্গালুরুতে একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, সিজিপির অভিজিৎ দীপকে ও আশুতোষ রাঙ্কা বিদেশি অর্থ পেয়েছেন এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তবে সিজিপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে সরকারকে তা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়।

মূলত এই ঘটনার পর পরই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশাল শব্দটি নিয়ে বিতর্ক বাড়ে।

এক সময় ছত্তিশগড়ের বস্তার ছিল মাওবাদী বা নকশাল আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সরকারের আগ্রাসী অভিযান, ব্যাপক ধরপাকড় ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে এলাকাটির চিত্র বদলে গেছে।

অতীতের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে নিকটবর্তী দন্তেওয়াড়ায় নকশাল হামলায় ৬৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান এবং ৪১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর নিহত মাওবাদীর চেয়ে শহিদ জওয়ানের সংখ্যা বেশি ছিল। তবে বর্তমান সরকারের নীতি ও ইচ্ছাশক্তির কারণে আজ সিআরপিএফ জোয়ানদের আর প্রাণ দিতে হচ্ছে না। তবে সশস্ত্র আন্দোলনের অবসানই শেষ নয়, এটি দেশের শত বছরের স্বপ্ন পূরণের এক নতুন যাত্রার সূচনা মাত্র।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত