এক এক করে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব: প্রধানমন্ত্রী

দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন বাংলাদেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের ভিতরেই হোক, দেশের বাইরেই হোক, সব ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা এক এক করে দেব। কোনো ষড়যন্ত্র করে মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির ‘সার্বভৌমত্ব শোভাযাত্রার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বেলা সোয়া ৩টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী হেঁটেই ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেট হয়ে শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে সমাপনী বক্তৃতায় তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর থেকে যে মহল বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত, জনগণ তাদের পরাজিত করেছে। আবারও তারা ষড়যন্ত্র নিয়ে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আজ এই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব। এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রতিজ্ঞা।’
এর আগে, নয়াপল্টনে শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব র্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন, আজকের এই র্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন। একইসঙ্গে যে গণতন্ত্রকে ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশের মানুষ জীবন বিসর্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সেই গণতন্ত্রকে রক্ষার দিন হোক।’
ক্ষমতাসীন দলের এই কর্মসূচি ঘিরে কাকরাইল মোড় থেকে শুরু করে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত হাজারো নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ঢল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। নেতা-কর্মীদের কাছে সমর্থন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সাথে আছেন?’ এ সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের বাক্স্বাধীনতার দিন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রজনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষেরা সেই স্বৈরাচার সেই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। তিনি আরও বলেন, যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে দেশের মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
তারেক রহমান বলেন, অতীতের মতো এখনও তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দাবিয়ে রাখতে চায়…। আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। যে দেশের মানুষ ১৯৭১ ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সিপাহী-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।
এ কর্মসূচি ঘিরে দুপুর ১২টা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন। নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তাঁদের জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন তাঁরা।









