Ajker Patrika

উত্তরপ্রদেশে উস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁর বাড়ি ভাঙা নিয়ে বিতর্ক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২০: ১৭
উত্তরপ্রদেশে উস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁর বাড়ি ভাঙা নিয়ে বিতর্ক
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে অবস্থিত প্রখ্যাত সানাইবাদক ও ভারতরত্নপ্রাপ্ত ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁর বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বারাণসী পৌর করপোরেশন জানিয়েছে, বাড়িটির জীর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে আগেই বিসমিল্লাহ খাঁর পরিবারের সদস্যদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে তাঁর পরিবারের সদস্যরা তা শোনেননি। পরে তাঁরা নিজেরাই ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে এ ঘটনায় বিজেপি সরকারের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান ও বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদব। আজ শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাড়ির অংশবিশেষ ভাঙার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন অখিলেশ যাদব। তিনি লেখেন, ‘যাঁদের (বিজেপি) জন্য সানাই বাজেনি, তাঁদের কাছ থেকে আর কী-ই বা আশা করা যায়?’

বিজেপি ও তাদের ‘সংকীর্ণমনা সহযোগীরা’ সব সময় শিল্প ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলেও অভিযোগ করেন এসপি প্রধান। তিনি বলেন, রক্ষণশীল মানসিকতার কারণে সৃজনশীল মানুষদের তারা পছন্দ করে না। অথচ সৃজনশীল মানুষেরাই সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেন। শিল্প মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহনশীলতা বাড়ায়। এ কারণেই বিজেপি শিল্পের সব ধরনের প্রকাশকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডার পথে বাধা হিসেবে দেখে। কখনো আবার শিল্পকে নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যবহার করে সেটিকে নেতিবাচক দিকে নিয়ে যেতে চায়।

বিসমিল্লাহ খাঁর বাড়ি ভাঙার ঘটনাকে দেশের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত করে অখিলেশ লেখেন, ভারতরত্নপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির বাড়ি ভাঙা শুধু তাঁর মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট করা নয়, ভারতের সম্মানেও আঘাত করা। ঘৃণার আগুনে পুড়ে বিজেপি এখন দেশের ক্ষতি করছে। ক্ষমতায় গেলে বিসমিল্লাহ খাঁর সংগীত-ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি ‘লিসনিং মিউজিয়াম’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন অখিলেশ।

তবে পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা অখিলেশের অভিযোগের বিপরীতে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বাড়িটি ভাঙার সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগেই বাড়িটির একাংশ ভেঙেছেন।

বারাণসী পৌর করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দীপ শ্রীবাস্তব বলেন, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর আওতায় তাঁদের বাড়ির দিকে যাওয়া সড়কগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন ও অবদানকে তুলে ধরে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেকের বাড়ির একটি কক্ষ জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁর বাড়িতে জাদুঘর তৈরির বিষয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল বলে জানান শ্রীবাস্তব। তবে পরিবার এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ভবনটির জীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই সেটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।

শ্রীবাস্তবের দাবি, পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় পৌর করপোরেশন সেখানে জাদুঘর নির্মাণ করতে পারেনি। বাড়িটি ভাঙার কাজেও পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো দায় নেই।

বারাণসীর চক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজয় কুমার শুক্লাও বলেছেন, বাড়ির মালিক নিজেই ভবনটি ভাঙার কাজ করছেন। ভবনটির খারাপ অবস্থার বিষয়ে পৌর করপোরেশন আগেই নোটিশ দিয়েছিল। এ চাড়া বাড়ির কিছু অংশ ভাঙা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছিল। এ কারণে তাঁরা থানায়ও গিয়েছিলেন। তবে সেই বিরোধ মিটে গেছে বলে জানান বিজয় কুমার শুক্লা। বর্তমানে মালিক নিজের সম্পত্তির অংশবিশেষ ভাঙার কাজ করছেন।

ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁ ভারতের শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী ছিলেন। সানাইকে শাস্ত্রীয় সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ বাদ্যযন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত