Ajker Patrika

তামিলনাড়ুতে থালাপতি বিজয়ের উত্থানের নেপথ্যেও সেই ‘প্রশান্ত কিশোর’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
তামিলনাড়ুতে থালাপতি বিজয়ের উত্থানের নেপথ্যেও সেই ‘প্রশান্ত কিশোর’
২০২৫ সালে টিভিকে-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় চমক দেখাচ্ছে তামিল অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ (টিভিকে)। সোমবার (৪ মে) প্রাথমিক ভোট গণনার ফলাফল বলছে, কয়েক দশক ধরে রাজ্যটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা ডিএমকে ও এআইডিএমকে-এর দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে দিয়ে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসছে বিজয়ের টিভিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অপ্রত্যাশিত উত্থানের পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছেন বিহারের সেই আলোচিত নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর!

পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর প্রতিবেদন বলছে—তামিলনাড়ুতে ভোটের ফল নিয়ে এক বছর আগেই বিজয়ের উত্থানের আভাস দিয়েছিলেন প্রশান্ত। সেবার, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমে টিভিকে-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, একজন বিহারি হিসেবে তামিলনাড়ু রাজ্যে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে চান। কিন্তু কীভাবে সেটা সম্ভব?

এ প্রসঙ্গে তিনি মজার ছলে ভারতীয় ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে নিজের জনপ্রিয়তার তুলনাও টানেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে তামিলনাড়ুর সবচেয়ে জনপ্রিয় বিহারি হতে হবে। ধোনি চেন্নাই সুপার কিংসকে জেতান, তাই তিনি এখানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, আমার প্রতিযোগিতা তাঁর সঙ্গেই।’ রসিকতা করে তিনি আরও বলেন, ধোনিই একমাত্র বিহারি যিনি তামিলনাড়ুতে তাঁর চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তিনি যোগ করেন, ‘পরের বছর যখন আমি আপনাদের জিততে সাহায্য করব, তখন জনপ্রিয়তায় আমি ধোনিকেও ছাড়িয়ে যাব।’

প্রশান্ত কিশোরের মূল কৌশল ছিল তামিলনাড়ুর একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে টার্গেট করা। তাঁর মতে, তামিলনাড়ুর প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোটার দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় রাজনীতিতে বিরক্ত এবং তারা নতুন বিকল্প খুঁজছে। এই ভাসমান ভোটারদের একত্রিত করাই ছিল টিভিকের জয়ের চাবিকাঠি। বিজয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি দলের জন্য একটি সুস্পষ্ট রণকৌশল তৈরি করেন এবং কিছু সময় উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।

সোমবার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, টিভিকে সরাসরি ডিএমকের প্রচলিত ভোটব্যাংকে ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের তরুণ ভোটারদের বড় অংশ দলটির দিকে ঝুঁকেছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং ‘নেশামুক্ত তামিলনাড়ু’ গড়ার প্রতিশ্রুতি জনমনে প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কোনো জোটে না গিয়ে ২৩৪টি আসনেই এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলটি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত কিশোরের সেই ১৫-২০ শতাংশ ভোটের সমীকরণই এবার বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন নির্বাচনে সাফল্যের জন্য পরিচিত এই কৌশলবিদের ঝুলিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত