Ajker Patrika

ইউক্রেনে ‘যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ রাশিয়ার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৩৭
ইউক্রেনে ‘যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ রাশিয়ার
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন। ছবি: এএফপি

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা দাবি করেছেন, স্থানীয় সময় আজ রোববার ভোরে রাজধানী কিয়েভে চালানো এই হামলায় যুদ্ধ শুরুর পর সর্বাধিক সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ হামলায় কিয়েভে অন্তত একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানায়, হামলাগুলো রাজধানীর ছয়টি জেলাজুড়ে আঘাত হানে।

যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ার হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। একই সময়ে দেশটির হাতে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

এদিকে, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণ করায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের অনেকের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ বলেছেন, ইউক্রেন যখন যুদ্ধে গতি ফিরে পাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জেলেনস্কির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া সবচেয়ে বড় ভুল।

রোববারের হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানায়, আবাসিক ভবন, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একটি ছাত্রাবাস এবং বিভিন্ন যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্ভিয়াতোশিনস্কি জেলায় আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ব্যক্তিগত বাড়ি থেকে উদ্ধারকর্মীরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। শেভচেনকিভস্কি জেলায় আগুনে জ্বলতে থাকা তিনতলা একটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি অনাবাসিক ভবনের আগুনও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে সেখানে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অগ্নিনির্বাপক বাহিনী সোলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি ও দনিপ্রো জেলায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ‘ইউক্রেনের রাজধানীর ওপর এক নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে মস্কোর ওপর ধ্বংসাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’

রাশিয়ার ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ফ্রন্টলাইনের সীমান্তবর্তী মধ্য ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলও। আঞ্চলিক কর্মকর্তা ওলেক্সান্দর গাঞ্জার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে একজন নিহত হয়েছেন। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার একটি ড্রোন যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে আঘাত হানে। এতে ট্রেনটির কন্ডাক্টর নিহত হন বলে ইউক্রেনের জাতীয় রেলওয়ে কোম্পানি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগুনে জ্বলতে থাকা রেলগাড়ির ছবিও প্রকাশ করেছে।

জুলাই মাসজুড়ে রাশিয়া কিয়েভে একাধিক বৃহৎ আকারের হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের মধ্যেই অন্তত সাতবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আজ রোববার ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রাতে রাশিয়া ছোড়া ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের বাহিনী কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহ ব্যাহত করার কৌশলের অংশ হিসেবে তারা নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইউক্রেনকে দেশীয়ভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দিতে প্রস্তুত। তবে এ উদ্যোগের বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনও স্পষ্ট নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত