Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সুযোগে ৬০০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৬: ০০
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সুযোগে ৬০০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি ইরানের
হরমুজ প্রণালি। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে যুদ্ধবিরতির এই সময়ে তেল রপ্তানি বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। ইসরায়েলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন নতুন সামরিক বিকল্প তৈরি করছে, যদিও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল বেসরকারি সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরানের তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়। জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে ইরানের প্রায় ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার এশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়।

গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল একটি নথি প্রকাশ করে, যেখানে নিশ্চিত করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির জন্য একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছিল। কিন্তু ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জুনে জারি করা সেই সাধারণ লাইসেন্স বাতিল করে। লাইসেন্সটি ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল। লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি ওই খাতে নতুন কোনো কার্যক্রম পরিচালনাও নিষিদ্ধ করা হয়।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর টানা আট রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম মার্কিন সামরিক প্রাণহানির ঘটনা। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে জর্ডানে আরও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান এখন এমন অত্যন্ত দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা ভূমির কাছাকাছি এসে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, লক্ষ্য নির্ধারণে (টার্গেট অ্যাকুইজিশন) ইরান চীন বা রাশিয়ার সহায়তা পাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা, রিফুয়েলিং বিমান এবং এফ-১৬ ও স্টেলথ এ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জার্মানির স্পাংডাহলেম বিমানঘাঁটি থেকে এফ-১৬ এবং ব্রিটেন থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এসব বিমান প্রয়োজনে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহায়তা করা রাডার ধ্বংসের মিশনেও অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সতর্কতাও প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, ইরান আপাতত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি নতুন ফ্রন্ট খুলতে আগ্রহী নয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাদের মতে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান একাই পরিচালনা করতে চেয়েছে এবং ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত রেখেছে, যাতে সংঘাতকে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ না পায় তেহরান।

তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মহলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হলে কিংবা ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখলে ইসরায়েলও শেষ পর্যন্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত