Ajker Patrika

হরমুজকে ‘গুরুত্বহীন’ করতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরাকের ৪৮ চুক্তি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজকে ‘গুরুত্বহীন’ করতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরাকের ৪৮ চুক্তি
হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল–জাইদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

হরমুজ প্রণালিকে গুরুত্বহীন করে তুলতে ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), সহযোগিতা চুক্তি ও অংশীদারিত্ব ঘোষণাপত্রে সই করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে হওয়া এসব চুক্তির মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং ইরাক-সিরিয়া তেল পাইপলাইন পুনর্নির্মাণের মতো বড় প্রকল্প।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস জানায়—ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা চুক্তি এবং অংশীদারিত্ব ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এসব চুক্তির মধ্যে ইরাকের তেল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল এবং হ্যালিবার্টনের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি বড় অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণসংক্রান্ত একাধিক চুক্তিও হয়েছে।

এছাড়া বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইরাক। এর মাধ্যমে দেশটিতে স্টারলিংকের সেবা চালু করা হবে। প্রাথমিক এসব চুক্তি শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইউএস চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হয়।

এমন সময় এসব চুক্তি হলো, যখন বাগদাদ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই লক্ষ্যেই ইরাক ও সিরিয়া দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা ইরাক-সিরিয়া তেল পাইপলাইন পুনর্নির্মাণে একটি সহযোগিতা চুক্তি করেছে। পাইপলাইনটি উত্তর ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক অঞ্চল থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর শহর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি অনুসারে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি শেভরন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইরাক ও সিরিয়ার পাইপলাইন পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানায়। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম’ এই প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো বাস্তবায়ন করবে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, পাইপলাইন পুনর্বাসন সম্পন্ন হলে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে। তারা এই পাইপলাইনকে ইরাকের তেল উৎপাদনকে ভূমধ্যসাগরীয় রপ্তানি বাজার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, ইরাকের সর্বশেষ তেল পাইপলাইন চুক্তিগুলো এমন একটি কর্মসূচির পথ তৈরি করবে, যা ‘হরমুজ প্রণালিকে গুরুত্বহীন করে তুলবে।’

সিরিয়া পাইপলাইন প্রকল্পের পাশাপাশি শেভরন ইরাকের সঙ্গে তেল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও দুটি চুক্তি করেছে বলে কোম্পানিটির করপোরেট বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেক স্পিয়ারিং জানিয়েছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইরাকের এই প্রাথমিক চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

ব্যবসায়িক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেন, ‘আমরা উন্মুক্ত দরজার নীতি অনুসরণ করছি। যারই কোনো প্রকল্প থাকবে, সে আমাদের সঙ্গে এসে কথা বলতে পারবে। আমরা কারও জন্য বিষয়টিকে কঠিন করে তুলব না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত