Ajker Patrika

চেরনোবিল পারমাণবিক চুল্লি ক্ষতিগ্রস্ত, তেজস্ক্রিয় বিকিরণের বিষয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯: ৩৭
চেরনোবিল পারমাণবিক চুল্লি ক্ষতিগ্রস্ত, তেজস্ক্রিয় বিকিরণের বিষয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
গত ফেব্রুয়ারিতে ড্রোন হামলায় চেরনোবিল পারমাণবিক চুল্লির সুরক্ষা আবরণে একটি ছিদ্র তৈরি হয়। ছবি: এপির সৌজন্যে

ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক চুল্লির ওপর তৈরি একটি সুরক্ষামূলক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে এটি আর তেজস্ক্রিয়তা আটকানোর কাজ করতে পারছে না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা (আইএইএ)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ড্রোন হামলায় এর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই হামলায় চেরনোবিল পারমাণবিক চুল্লির সুরক্ষা আবরণে একটি ছিদ্র তৈরি হয়।

এর আগে ১৯৮৬ সালে চেরনোবিলের পারমাণবিক চুল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণে চুল্লিটির ছাদ উড়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় যেন বিকিরণ না ছড়ায়, সে জন্য চুল্লির ক্ষতিগ্রস্ত অংশটির ওপর কংক্রিট ও স্টিলের তৈরি একটি প্রতিরক্ষা স্তর সংযুক্ত করা হয়েছিল।

তবে গত সপ্তাহে আইএইএর পরিদর্শনে দেখা গেছে, ড্রোনের আঘাতে কংক্রিট ও স্টিলের তৈরি ওই সুরক্ষা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি, সুরক্ষামূলক কাঠামোটি প্রাথমিক নিরাপত্তা কার্যকারিতা (তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা) হারিয়েছে।’ তবে তিনি জানান, এর ভার বহনকারী কাঠামোর তেমন ক্ষতি হয়নি।

গ্রোসি বলেন, সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন জানায়, বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন চেরনোবিল চুল্লিতে আঘাত হানে, যার ফলে আগুন লাগে এবং চুল্লির চারপাশের প্রতিরক্ষামূলক আচ্ছাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ ড্রোনটি রাশিয়ার বলে দাবি করেছিল। তবে মস্কো প্ল্যান্টে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণের প্রথম কয়েক সপ্তাহ রুশ বাহিনী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এক মাসের বেশি সময় চেরনোবিল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা দখল করে রেখেছিল।

প্রায় চার দশক আগে (১৯৮৬ সালে) চেরনোবিল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাব অনুযায়ী, বিস্ফোরণে তৎক্ষণাৎ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে জাতিসংঘের হিসাব মতে, সরাসরি বিকিরণের কারণে ৫০ জন মারা গিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ অনুমান করেছিল, ভবিষ্যতে চেরনোবিলের বিকিরণজনিত কারণে আরও ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত