Ajker Patrika

আগাছা খেয়ে বেঁচে আছেন রুশ অধিকৃত ওলেশকির বাসিন্দারা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৪
আগাছা খেয়ে বেঁচে আছেন রুশ অধিকৃত ওলেশকির বাসিন্দারা
যুদ্ধে এভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওলেশকি শহরের অসংখ্য ভবন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের রুশ-অধিকৃত শহর ওলেশকিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে সেখানে থাকা প্রায় ২ হাজার বেসামরিক মানুষ (যাদের মধ্যে প্রায় ৫০টি শিশু) চরম অনাহারের মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিকে ‘পৃথিবীর নরক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, দিনিপ্রো নদীর ওপারে খেরসন শহরের বিপরীতে অবস্থিত ওলেশকি যুদ্ধের আগে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের আবাসস্থল ছিল। বর্তমানে সেখানে রয়ে যাওয়া বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খাবারের সংকট এতটাই তীব্র যে অনেকের দিনে মাত্র একবার খাবার জুটছে। কখনো কখনো তাঁরা ফুলের টবের জায়গায় চাষ করা জুচিনি দিয়ে আলু ছাড়া পাতলা স্যুপ তৈরি করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে বুনো ভোজ্য আগাছা পার্সলেন।

সম্প্রতি ওলেশকি থেকে পাঠানো এক বার্তায় এক নারী জানান, তাঁর খাবার সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে তাঁর ওজন ছিল ১১০ কেজি; এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৭ কেজিতে। তিনি লিখেছেন, ‘এখন বুঝতে পারছি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছাড়া আমি মারা যাব।’ গত শীতকালে যে বাড়িতে তিনি ছিলেন সেটিও ধ্বংস ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বড় আকারের ড্রোন ব্যবহার করে ওলেশকি ও আশপাশের এলাকায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী ফেলেছে। খেরসনের সামরিক প্রশাসনের দাবি, প্রায় চার টন খাদ্য ১০০টি বিতরণকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এর কতটা রুশ বাহিনীর হাতে পড়ে গেছে, তা স্পষ্ট নয়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওলেশকির পরিস্থিতি তুলে ধরে একে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বেসামরিকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং অভিযোগ করেন, রাশিয়াই এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা।

অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ওলেশকির ‘সংকটজনক পরিস্থিতি’ স্বীকার করলেও মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়ার জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীকে দায়ী করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত মে মাস পর্যন্ত সেখানে কিছু খাদ্য সরবরাহ পৌঁছালেও পরে রুশ বাহিনী মাইনফিল্ড ও ড্রোন নজরদারি বাড়ালে সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা ড্রোন থেকেও রুশ সেনারা খাবার কেড়ে নিচ্ছে।

ওলেশকি সামরিক প্রশাসনের প্রধান তেতিয়ানা হাসানেঙ্কো জানান, গত বছরের শেষ দিক থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। মাইন ও ড্রোন হামলার কারণে যানবাহনে করে খাবার পৌঁছানো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শহরে বিদ্যুৎ নেই, এটিএম ও নগদ অর্থের ব্যবস্থাও কার্যত অচল।

তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালে কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের পর কাদায় ভরে যাওয়া ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে খাবার উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ রুশ সেনাদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মৃতদেহ নিয়ে। হাসানেঙ্কোর দাবি, শহরের বিভিন্ন স্থানে মৃতদেহ পড়ে আছে। নিয়মিত ড্রোন উড়তে থাকায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না; ফলে কুকুর মৃতদেহ খেয়ে ফেলছে বলে তিনি জানান।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, রুশ বাহিনী বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত করছে। তাঁদের ধারণা, খেরসন থেকে সম্ভাব্য ইউক্রেনীয় সামরিক অভিযান ঠেকাতে ওলেশকির বাসিন্দাদের সেখানে আটকে রাখা হচ্ছে।

এদিকে এক বাসিন্দা বার্তায় লিখেছেন, ‘সব সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ আরেকজন জানান, রুশ সেনারা মানুষের বাড়িতে ঢুকে আলু, পেঁয়াজ ও রসুন পর্যন্ত খুঁড়ে নিয়ে গেছে। প্রবীণ নারীদের কাছ থেকেও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত