
কংগ্রেস এমপি শশী থারুর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের প্রশংসা করে তোপের মুখে পড়েছেন। রামনাথ গোয়েঙ্কা লেকচারে মোদির দেওয়া ভাষণে ‘উপস্থিত থাকতে পেরে ভালো লাগছে’ মন্তব্য করেন শশী থারুর। তাঁর এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত থারুরের সমালোচনা করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত প্রশ্ন তুলেছেন—যদি শশী থারুরের মনে হয় যে, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কৌশলগুলোই বেশি কার্যকর, তাহলে তিনি কংগ্রেসে আছেন কেন? দীক্ষিত বলেন, ‘শশী থারুরের সমস্যা হলো—আমার মনে হয়, তিনি দেশের সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। আপনার কাছে যদি মনে হয়, কেউ কংগ্রেসের নীতির বিরোধিতা করে দেশের ভালো করছে, তাহলে আপনি তাদেরই নীতি অনুসরণ করুন। আপনি কংগ্রেসে কী করছেন? শুধু এমপি বলে?’
দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের ছেলে সন্দীপ গতকাল বুধবার আরও বলেন, ‘আপনি যদি সত্যিই মনে করেন যে, বিজেপি বা প্রধানমন্ত্রী মোদির কৌশলগুলো আপনার দলের তুলনায় বেশি কার্যকর, তাহলে আপনাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। যদি দিতে না পারেন, তাহলে আপনি ভণ্ড।’
এর এক দিন আগে তিরুবনন্তপুরমের লোকসভা এমপি শশী থারুর বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির রামনাথ গোয়েঙ্কা লেকচার ছিল একই সঙ্গে অর্থনৈতিক রূপরেখা ও সাংস্কৃতিক আহ্বান। এর কয়েক ঘণ্টা পর কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে জানতে চান, থারুর সেখানে প্রশংসার সুযোগ খুঁজে পেলেন কীভাবে?
এক্সে গত মঙ্গলবার দেওয়া পোস্টে শশী থারুর জানান, তিনি অনুষ্ঠানের আয়োজক সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আমন্ত্রণে লেকচারে যোগ দেন। তিনি লিখেছেন, ‘গত রাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রামনাথ গোয়েঙ্কা লেকচারে উপস্থিত ছিলাম। তিনি ভারতের উন্নয়নের অস্থিরতা নিয়ে গঠনমূলক কথা বললেন এবং জোর দিলেন উপনিবেশোত্তর মানসিকতার ওপর।’
শশী থারুর আরও লেখেন, ‘মোটের ওপর, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছিল অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আহ্বান। জাতিকে উন্নতির জন্য অস্থির হতে আহ্বান জানালেন। তীব্র সর্দি-কাশির মধ্যেও উপস্থিত থাকতে পেরে খুশি লাগছে!’
শশী থারুরের এই টুইটের পর শ্রীনাতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসলে ‘স্বচ্ছ সাংবাদিকতার সমস্যা’ ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল। শ্রীনাতে দাবি করেন মোদি ‘দিনরাত’ কংগ্রেস নিয়ে ভাবেন। শ্রীনাতে বলেন, ‘আমি তাঁর বক্তৃতায় প্রশংসার মতো কিছু পাইনি। আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীকে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। তিনি একটি সংবাদপত্রের আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তাঁর বলা উচিত ছিল তাঁর স্বচ্ছ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ঠিক কী কী সমস্যা। সত্য দেখানো বা বলা যাদের পেশা, তাঁদের প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট কেন…তাই আমি কোনো প্রশংসার কারণ দেখিনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি জানি না, তিনি (থারুর) কীভাবে প্রশংসার জায়গা খুঁজে পেলেন…আমার কাছে ওটা ক্ষুদ্র মানসিকতার বক্তৃতা মনে হয়েছে। তিনি সেখানে কংগ্রেসকেও আক্রমণ করলেন। প্রধানমন্ত্রী দিনরাত কংগ্রেসকে ভাবেন। বিষয়টা বিস্ময়কর।’
ষষ্ঠ রামনাথ গোয়েঙ্কা লেকচারে মোদি বিহার নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এই ফলাফল রাজ্য সরকারগুলোকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, উন্নয়ন নীতিই নির্ধারণ করে দেবে তাদের ভবিষ্যৎ। তিনি কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, নকশালবাদী ও মাওবাদী সন্ত্রাসকে সমর্থনকারী শক্তিগুলো দেশে জায়গা হারাচ্ছে, কিন্তু মূল বিরোধী দলে তাদের প্রভাব বাড়ছে।
শশী থারুর প্রধানমন্ত্রী মোদি বা বিজেপি সরকারের প্রশংসা করে নিজ দলে এর আগেও আক্রমণের মুখে পড়েছেন। এর আগে তিনি, বলেছিলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে পারিবারিক রাজনীতি ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ এবং সময় এসেছে ভারতের ‘বংশতন্ত্রের বদলে মেধাতন্ত্র’ বেছে নেওয়ার।
বিজেপি থারুরের ওই মন্তব্য দ্রুত লুফে নেয়। দলটি এটিকে ‘খুব সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ’ বলে আখ্যা দেয় এবং বলে, এই বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে—কীভাবে ভারতীয় রাজনীতি পারিবারিক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে।

ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্বের প্রধান ৮০টি থিংকট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ গত এক মাসে প্রকাশিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ...
১ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক অভিযানের বৈধতা চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে আমিরাত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের জন্যও তারা লবিং করছে বলে জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইরানে স্থল অভিযান চালালে মার্কিন সেনারা শুধু ছদ্মবেশী জঙ্গি বা লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদেরই মুখোমুখি হবে না; তাদের সামনে দাঁড়াবে একটি সুসংগঠিত ও বিপুলসংখ্যক যোদ্ধার বাহিনী, যারা মাতৃভূমি রক্ষাকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে দেখে। গত চার দশকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রতিরক্ষার এই কাঠামো গড়ে তুলেছে তেহরান।
২ ঘণ্টা আগে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো সামরিক জোট গঠিত হয়। এই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা। স্নায়ুযুদ্ধের পুরোটা সময় ন্যাটো জোট কাজ করেছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণবাদ ও প্রভাব মোকাবিলায়।
৩ ঘণ্টা আগে