Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্যের এক মিত্র দেশকে কেন ‘উড়িয়ে’ দিতে চান ট্রাম্প, খোদ ওয়াশিংটনেই বিস্ময়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ২০: ১১
মধ্যপ্রাচ্যের এক মিত্র দেশকে কেন ‘উড়িয়ে’ দিতে চান ট্রাম্প, খোদ ওয়াশিংটনেই বিস্ময়
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যের এক মিত্র দেশকে বোমা মেরে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই হুমকিতে খোদ ওয়াশিংটনেই বিস্ময় দেখা দিয়েছে। কারণ, ট্রাম্পের এই হুমকির লক্ষ্যবস্তুটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরোনো মিত্র দেশ।

আরব বিশ্বে দীর্ঘ সময় ধরে অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীন থাকা একটি রাষ্ট্র হলো ওমান। এটিই প্রথম পারস্য উপসাগরীয় দেশ, যা ১৮৩৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। গত ১৫ বছর ধরে ওমান যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে বন্দী মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতা করে আসছে এবং এই দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অনেকগুলো আলোচনার আয়োজন করেছে।

এ ছাড়া স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা ও ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর ওমানই প্রথম উপসাগরীয় রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।

সম্প্রতি পুরোনো এই মিত্র দেশকেই বোমা মেরে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু কেন?

মধ্যপ্রাচ্যে নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে ওমানকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’ বলে অভিহিত করা হয়। দেশটির নিজস্ব ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে মাসকাট (ওমানের রাজধানী) দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলেছে। আরব সাগরে ওমানের কৌশলগত অবস্থান ও হরমুজ প্রণালির ওপর আংশিক নিয়ন্ত্রণ ঊনবিংশ শতাব্দীতে দেশটিকে একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করতে সাহায্য করেছিল। তবে এই কৌশলগত অবস্থানের কারণেই দেশটিকে বারবার পার্সিয়ান (ইরানি) ও সৌদিদের মতো আঞ্চলিক শক্তির আক্রমণ এবং হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পাশাপাশি নিজ দেশে বিদেশি মদদপুষ্ট বিদ্রোহের শিকারও হতে হয়েছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে ওমানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ হলেও তা বেশ সতর্কতার সঙ্গে বজায় রাখা হতো। প্রতিবেশী কিছু উপসাগরীয় দেশের মতো ওমান ইরানের ব্যবসা-বাণিজ্য বা অভিবাসনের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি, বরং তারা তেহরানের সঙ্গে একটি শান্ত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। আর এই নীতির কারণেই ওমান কালক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতো দুই পরম শত্রুর মধ্যে একটি বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে ওমানের এই সূক্ষ্ম ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান চলতি বছরে এসে বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঠিক এক দিন আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ বদর আলবুসাইদি (যিনি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করেছিলেন) একটি মার্কিন টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জন করেছে এবং ‘খুব শিগগির’ একটি চুক্তি হবে।

কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওমান এই সংঘাতের অন্যতম সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়। চলতি বছরের ১৮ মার্চ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ বদর আলবুসাইদি প্রভাবশালী ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টে ‘অবৈধ যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনতে মিত্রদের এগিয়ে আসতে হবে’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ‘তার নিজের পররাষ্ট্রনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’।

নিবন্ধটি প্রকাশের এক দিন পর অর্থাৎ ১৯ মার্চ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবুসাইদি বলেন, তাঁর লেখার উদ্দেশ্য ছিল সংকট সমাধানে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ এগিয়ে নেওয়া। তিনি আরও বলেন, শান্তির স্বার্থে সবার কাছে সত্য কথা বলাই ওমানের নিরপেক্ষতার অংশ।

এরপর একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয়—ইরান-ওমান মিলে হরমুজে টোল চালু করছে। তবে এ বিষয়ে ওমানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ও ইরান-ওমান মিলে হরমুজে টোল নেওয়া-সংক্রান্ত খবরগুলো দেখেই চটে যান ট্রাম্প। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হামলার শিকার হয়েও মাসকাট কূটনীতির মাধ্যমে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এমন জটিল পরিস্থিতিতে ওমানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি আসলেই বিস্ময়কর। কেননা, ওমান যেভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে, ট্রাম্প প্রশাসন তা পারছে না।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত