Ajker Patrika

হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়’ নামিয়ে আনার হুমকি ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ০৬
হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়’ নামিয়ে আনার হুমকি ইরানের
এঙ্গেলাব স্কয়ারে তেহরান নগর কর্তৃপক্ষের টাঙানো সেই বিলবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

ইরানি কর্তৃপক্ষ মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কায় আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়’ নামিয়ে আনা হবে বলে হুমকি দিয়েছে তেহরান। দেশজুড়ে প্রাণঘাতী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ বা সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে আছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকা এঙ্গেলাব (বিপ্লব) স্কয়ারে একটি বিশাল বিলবোর্ড উন্মোচন করে নগর কর্তৃপক্ষ। এটি ইরানের জলসীমার কাছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরি ও সহায়ক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে একধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিলবোর্ডে ওপর থেকে দেখা একটি বিমানবাহী রণতরির ছবি ছিল। তাতে রণতরির ডেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমান পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং চারপাশের পানিতে রক্ত মিশে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার আকৃতি তৈরি করেছে। বিলবোর্ডে ফারসি ও ইংরেজিতে লেখা ছিল—‘বাতাসে যারা বিষের বীজ বোনে, তাদের কপালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ই জোটে।’ বাইবেলের হোসিয়া অধ্যায়ের এই বিখ্যাত প্রবচনটির মূল ভাব—মানুষ যেমন কর্ম করে, তাকে তেমনই ফল ভোগ করতে হয়।

গতকাল সোমবার ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আবারও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে তাঁরা নতুন করে যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত। তাঁরা গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের মতো পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। একই দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, হামলা হলে এর জবাব হবে ‘সমগ্র ও অনুশোচনামূলক।’

এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এর ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা নিঃসন্দেহে সবাইকে প্রভাবিত করবে।’ তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের বিভিন্ন পক্ষ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তার প্রেক্ষাপটেই এই সতর্কতা। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, মার্কিন ‘আর্মাডা’ পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, তেহরানের মতে ‘আরও বিচক্ষণ ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত ইউরোপবহির্ভূত পক্ষগুলোর শয়তানি প্রলোভনের ফাঁদে পা না দেওয়া।’

ইরানি শাসনব্যবস্থার তথাকথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষের’ বাকি মিত্ররাও এবার ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। গত জুনের যুদ্ধে তারা কোনো পদক্ষেপ না নিলেও এবার সংঘাত শুরু হলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে আঘাত হানতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরাকের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর প্রধান আবু হুসেইন আল-হামিদাবি সোমবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন হলে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি দেন। একই দিনে হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রশংসা করে বক্তব্য দেন। তিনি এর আগেও একাধিকবার খামেনির প্রশংসা করেছেন।

ইয়েমেনের হুতিরাও সোমবার এক ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও আগে হামলার শিকার হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজ দেখানো হয়। এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে হামলা বন্ধ থাকলেও তারা আবার এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

অপর দিকে বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘দাঙ্গাকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর দিচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করা ‘সন্ত্রাসীরা’ এসব সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল। উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশের পুলিশপ্রধান মোহাম্মদরেজা রহমানি রোববার এক বিবৃতিতে জানান, সেখানে নতুন করে ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সরকারি সম্পদ ধ্বংসে জড়িত ছিলেন অথবা রাস্তায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতার ‘নেতৃত্ব’ দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, উত্তরাঞ্চলের বন্দর আনজালি শহর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি অনলাইন পোস্টের মাধ্যমে মানুষকে, বিশেষ করে তরুণদের বিক্ষোভে অংশ নিতে উসকানি দিচ্ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) সোমবার জানায়, তাদের হিসাবে বিক্ষোভ চলাকালে ৫ হাজার ৮৪৮ জন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে তারা গত সপ্তাহে জানায়, বিক্ষোভে অন্তত ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘নির্দোষ’ বিক্ষোভকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সোমবার শীর্ষ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই বলেন, বিক্ষোভ-সংক্রান্ত মামলায় ‘কোনো দয়া’ দেখানো হবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, এটি এমন এক সময়, যখন ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অবরোধ’ চলছে। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ শত্রুর আগ্রাসন ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে মোকাবিলার সব পথ বন্ধ দেখিয়ে বারবার বিশ্বাসঘাতক শত্রুর সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দিচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করলে বাংলাদেশকে ডাকতে পারে আইসিসি

ইরানের কাছে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় ‘আর্মাডা’, সমঝোতা চায় ইরান: ট্রাম্প

পথসভায় কেঁদেকেটে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ভোট চাইলেন যুবদল নেতা, পেলেন শোকজ

গোসল ফরজ হয় যেসব কারণে

পিঠা উৎসবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে একের পর এক ডিম নিক্ষেপ, ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান কর্মীদের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত