
উত্তর কোরিয়া ‘পৃথিবীর স্বর্গ’। কয়েক দশক আগে এই ভুয়া প্রচারণায় চার ব্যক্তিকে উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে যায় একটি প্রতারক চক্র। সেখানে পা রাখতেই স্বপ্নভঙ্গ হয় ওই চার ব্যক্তির। দীর্ঘ লড়াই শেষে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে উত্তর কোরিয়াকে নির্দেশ দিয়েছে জাপানের একটি আদালত। সোমবার দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেছেন, ওই চার ব্যক্তিকে ৮ কোটি ৮৮ লাখ জাপানি ইয়েন (প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার) দিতে হবে।
বাদীদের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়াকে তাঁদের কাছে ‘পৃথিবীর স্বর্গ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তাঁরা কঠোর ও অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যার মধ্যে জোরপূর্বক শ্রমও ছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তবে সোমবার দেওয়া এই রায় মূলত প্রতীকী বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, এটি কার্যকর করার বাস্তব কোনো উপায় নেই। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এই মামলাকে উপেক্ষা করে আসছে। এমনকি দেশটির নেতা কিম জং উনও জাপানের আদালতের পাঠানো কোনো সমন বা নির্দেশে সাড়া দেননি।
তবুও, জাপানের আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর আসা এই রায়কে বাদীপক্ষের আইনজীবী ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
মামলার আইনজীবী আতসুশি শিরাকি বলেন, ‘এই প্রথম কোনো জাপানি আদালত উত্তর কোরিয়ার অপকর্মের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করল।
ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার ‘জাইনিচি কোরিয়ান’ (জাপানে বসবাসরত জাতিগত কোরিয়ান) একটি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় উত্তর কোরিয়ায় স্থানান্তরিত হন। ওই সময় তাঁদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও চাকরির মাধ্যমে এক আদর্শ জীবনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যাঁরা সেখান থেকে বেঁচে ফিরেছেন, তাঁদের ভাষ্যমতে, সেখানে জোরপূর্বক খামার ও কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এছাড়া তাঁদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ছিল এবং দেশত্যাগের কোনো সুযোগ ছিল না।
মামলার অন্যতম বাদী ৮৩ বছর বয়সী এইকো কাওয়াসাকি। ১৯৬০ সালে ১৭ বছর বয়সে উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৪৩ বছর পর ২০০৩ সালে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন তিনি। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮৩ বছর।
২০১৮ সালে পাঁচজন বাদী মিলে এই ক্ষতিপূরণের মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার চলাকালীন অবস্থায় মূল বাদীদের মধ্যে দুইজন মারা গেলেও তাদের একজনের পরিবার আইনি লড়াই চালিয়ে যান।
এর আগে ২০২২ সালে টোকিওর একটি নিম্ন আদালত এই মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, বিষয়টি জাপানের বিচারিক এখতিয়ারের আওতাভুক্ত নয় এবং মামলার মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
তবে ২০২৩ সালে টোকিও হাইকোর্ট ভিন্ন রায় দেন। উচ্চ আদালত জানায়, এই মামলা জাপানের বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে এবং উত্তর কোরিয়া বাদীদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
সোমবার টোকিও জেলা আদালতে দেওয়া রায়ে বিচারক তাইইচি কামিনো বলেন, ‘এটা বলা মোটেও অতিরঞ্জিত হবে না যে, উত্তর কোরিয়ার কারণে এই মানুষদের জীবনের অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়ে গেছে।’
বাদীপক্ষের আরেক আইনজীবী কেনজি ফুকুদা রায়টির গুরুত্ব স্বীকার করে নিলেও বলেন, বাস্তবে উত্তর কোরিয়া থেকে কোনো অর্থ আদায় করা হবে একটি বড় ‘চ্যালেঞ্জ।’

নেপালের রাজনীতিতে রীতিমতো বড় ভূমিকম্প ঘটে গেছে। গত বছরের জেন-জি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, দমনপীড়ন ও অপরাধমূলক অবহেলার অভিযোগে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নির্বাচনের পরপরই নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের ঘটনা ঘটল। গত বছরের জেন-জি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমনপীড়ন চালানোর অভিযোগে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২ ঘণ্টা আগে
জেন-জি বিপ্লবের হাত ধরে নেপালের নতুন সরকার গঠনের পরদিনই গেপ্তার হলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। গত বছর বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
এটি ইরানের জন্য রাশিয়ার পাঠানো চিকিৎসা সহায়তার দ্বিতীয় চালান। রেলপথে এই সহায়তা ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন আজারবাইজানের শহর আস্তারায় পৌঁছানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রুশ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান সরকারের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কাছে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করেন।
১১ ঘণ্টা আগে