
হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার রীতিমতো কেঁপে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল–গ্যাসের ঊর্ধ্বমুখী দামের চাপ সামাল দিতে ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহন করছে। ইরাকও স্থলপথে তেল রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
এই সংকটকে সুযোগ হিসেবে দেখছে তুরস্ক। কারণ, দেশটি এরই মধ্যে বহু আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের সংযোগস্থল। তারা নতুন প্রস্তাব দিয়েছে—আরও বেশি পাইপলাইন নির্মাণ। গত সপ্তাহে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী আলপারসলান বাইরাকতার একাধিক নতুন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।
বাইরাকতার দীর্ঘদিন ধরেই ইরাকের তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চল বসরাকে উত্তর তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে কথা বলে আসছেন। ইরাকের কিরকুক থেকে তেল তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সেহানে পৌঁছে দেয় ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইন। বহুদিন ধরে পুরোপুরি ব্যবহার না হওয়া এই পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহন সক্ষমতা ১৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি।
এখানেই থামেননি বাইরাকতার। তিনি কাতার থেকে তুরস্কে পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পুরোনো ধারণাটিও আবার সামনে আনেন, যা সৌদি আরব, জর্ডান ও সিরিয়াসহ কয়েকটি দেশ অতিক্রম করবে। গত মাসে ইরানের হামলার পর কাতারএনার্জি তাদের কিছু দীর্ঘমেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে। এতে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের গ্রাহকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাইরাকতার বলেন, ‘এখন এলএনজি রপ্তানি নেই। হরমুজ দিয়েও যেতে পারছেন না। এই অবস্থায় যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে তুরস্ক হয়ে ইউরোপে পাঠানো যায়, সেটাই হবে বিকল্প পথ। আমরা আপনাদের জন্য একটি নতুন রপ্তানি রুট খুলে দিচ্ছি।’
তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী আরেকটি দীর্ঘদিনের আলোচিত প্রকল্পও এগিয়ে নিতে আগ্রহী—ট্রান্স-কাস্পিয়ান গ্যাস পাইপলাইন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তুর্কমেনিস্তান থেকে গ্যাস কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে আজারবাইজান হয়ে ইউরোপে যাবে। তুর্কমেনিস্তান বছরে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস রপ্তানির সক্ষমতা রাখে। বর্তমানে তুরস্ক ইরানের মাধ্যমে সোয়াপ ব্যবস্থায় কিছু তুর্কমেন গ্যাস আমদানি করে। বাইরাকতার বলেন, ‘তবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হবে, ওই গ্যাস কাস্পিয়ান পেরিয়ে আজারবাইজান ও জর্জিয়া হয়ে তুরস্কে আসা।’
আরেকটি বিকল্প হিসেবে আঙ্কারা সিরিয়ার তেলক্ষেত্রগুলোকে ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। বিদ্যুৎ খাতে মন্ত্রীর আরেক প্রস্তাব—জর্ডান ও সিরিয়া হয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন।
ফেব্রুয়ারিতে মিডল ইস্ট আই জানায়, সৌদি আরব ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে সিরিয়ার মাধ্যমে গ্রিসের সঙ্গে একটি বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পে উচ্চ ভোল্টেজ ডাইরেক্ট কারেন্ট (এইচভিডিসি) ব্যবস্থার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে ইউরোপের সংযোগ তৈরি হবে।
তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত। বাইরাকতার বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, এতদিন আমাদের প্রস্তাবগুলোর তেমন সাড়া মেলেনি। আশা করি, এই সংকট সবাইকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে এবং আমরা এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারব।’
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতামত একরকম নয়। ট্রান্স-কাস্পিয়ান পাইপলাইন বা সিরিয়ার তেলক্ষেত্রকে তুরস্কের নেটওয়ার্কে যুক্ত করার মতো কিছু প্রকল্প তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত মনে করা হলেও, কাতার থেকে তুরস্কে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব বাস্তবায়ন অনেক বেশি কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ উমুদ শুকরি বলেন, তুর্কমেনিস্তানের গ্যাসকে আজারবাইজানের সাথে যুক্ত করার জন্য ট্রান্স-কাস্পিয়ান পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টি বর্তমানে অতীতের তুলনায় রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সম্ভাবনাময় হলেও আঞ্চলিক কিছু অমীমাংসিত সংকটের কারণে তা এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের জন্য তুর্কমেনবাশি থেকে বাকু পর্যন্ত কাস্পিয়ান সাগরের তলদেশ দিয়ে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন প্রয়োজন। এটি নির্মিত হলে দক্ষিণ ককেশাস পাইপলাইন এবং ট্রান্স-অ্যানাটোলিয়ান পাইপলাইনসহ বিদ্যমান রপ্তানি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।’
তবে অর্থনৈতিক বিষয়টি মোটেও সহজ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। শুকরি বলেন, ‘অত্যন্ত রক্ষণশীল হিসেবেও সাগরের তলদেশের এই অংশের খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। আর বছরে ২০-৩০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস সরবরাহের মতো বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে অতিরিক্ত আপস্ট্রিম উন্নয়ন, কমপ্রেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডাউনস্ট্রিম সম্প্রসারণের প্রয়োজন হবে।’
শুকরি আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি চাহিদার সংকটেও রয়েছে। কারণ, ইউরোপীয় বাজারে বর্তমানে এলএনজির সরবরাহ ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদী ক্রয় চুক্তি এবং মূল্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করা ছাড়া এই প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হবে। আজারবাইজান ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলেও তাদের ২০১৮ সালের ‘কনভেনশন অন দ্য লিগ্যাল স্ট্যাটাস অব দ্য কাস্পিয়ান সি’ অনুমোদন করা প্রয়োজন। এই চুক্তিটি সমুদ্রতলের পাইপলাইনের নিয়ম নির্ধারণ করে এবং রাশিয়ার ও ইরানের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাধার সুযোগ কমিয়ে দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা কাতার-তুরস্ক পাইপলাইন প্রকল্পটিও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যদিও ২০০৯ সালের দিকে তুরস্ক ও কাতারের নেতারা প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, তারা সৌদি আরব, জর্ডান এবং সিরিয়ার মধ্য দিয়ে কাতারের নর্থ ফিল্ডকে তুরস্কের অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার একটি পাইপলাইন তৈরিতে সম্মত হয়েছেন। তবে রাশিয়ার চাপে সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন বলে জানা যায়।
আসাদের পতনের পর তুরস্ক এখন এই ধারণাটি পুনরায় সচল করতে চায়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবছে না। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দোহার কাছে এলএনজি মডেলটিই এখন সেরা বিকল্প, কারণ এটি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি নমনীয়তা দেয়।
দোহাভিত্তিক মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ফেলো জাস্টিন ডারগিন বলেন, ‘প্রকল্পটি কারিগরিভাবে সম্ভব হলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বেশ নড়বড়ে। ঐতিহাসিকভাবে এই পাইপলাইনের খরচ ১০-১২ বিলিয়ন ডলার অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিলে এর খরচ বাস্তবিকভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি হবে।’
ডারগিন মিডল ইস্ট আইকে বলেন, একাধিক দেশের সীমান্ত পেরিয়ে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন কেবল একটি জ্বালানি প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গীকার যাতে অত্যন্ত উচ্চমানের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ কয়েক দশক ধরে স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান সংকট পাইপলাইনটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ালেও কাতারের এলএনজি ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষ, যা তাদের বিশ্বজুড়ে সরবরাহ এবং স্পট মার্কেটে প্রবেশের সুযোগ দেয়। বিপরীতে, একটি পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহকে কেবল একটি নির্দিষ্ট করিডোরে আটকে ফেলবে এবং কাতারের সেই নমনীয়তা কমিয়ে দেবে।
ডারগিনের মতে, ‘সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উপসাগরীয় উৎপাদকরা বর্তমানে বাইপাস সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে বেশি মনোযোগী এবং চলমান সংঘাত কমলে তারা এটি আরও সম্প্রসারণ করবে। তবে কাতার-তুরস্ক প্রকল্প সেগুলোর মতো সহজ বাইপাস ব্যবস্থা হবে না, কারণ ওই সিস্টেমগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব জাতীয় সীমানার ভেতরে পরিচালিত হয়।’
ডারগিন উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত কাতার-তুরস্ক পাইপলাইনটি রাষ্ট্রীয় এবং অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ—উভয় দিক থেকেই নাশকতার ঝুঁকিতে থাকবে। এর মধ্যে ইরানপন্থি গোষ্ঠী এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দিক থেকে কাতার ঐতিহাসিকভাবে ট্রানজিট নির্ভরশীলতা এড়িয়ে চলেছে। একটি বহুজাতিক পাইপলাইন কাতারকে ঠিক সেই রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলবে যা তারা কয়েক দশক ধরে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।’
ডারগিনের মতে, এই প্রকল্পের জন্য সৌদি আরব, জর্ডান, সিরিয়া এবং তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতা প্রয়োজন—যা বর্তমান পরিস্থিতিতে এক কথায় ‘অসম্ভব পর্যায়ের কঠিন’ কাজ।
তুলনামূলক সহজ সমাধান হতে পারে তুরস্কের প্রস্তাব—সিরিয়ার তেলক্ষেত্রগুলোকে ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করা, যেখানে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অব্যবহৃত সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে সিরিয়ার তেল উৎপাদন প্রতিদিন আনুমানিক ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। অথচ ২০১১ সালের গৃহযুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত।
যুক্তরাষ্ট্র-সিরিয়া বিজনেস কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ওয়ায়েল আলজায়াত বলেন, ‘এই প্রকল্পে সিরিয়া ও তুরস্ক উভয় দেশের কর্মকর্তারাই সমর্থন দিতে পারেন। তবে এখনো কিছু বাধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার কম উৎপাদন এবং তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিষ্পন্ন প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, ‘কিছু এলাকা এখনো সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এবং সেখানে হস্তান্তর পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।’ তিনি যোগ করেন, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বা ইসলামিক স্টেটের সেলগুলো এখনো হুমকি হয়ে থাকতে পারে।
তবুও আলজায়াত মনে করেন, সিরিয়ার ভেতর দিয়ে কাতার-তুরস্ক পাইপলাইন নির্মাণের তুলনায় এই প্রকল্প অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও সম্ভাবনাময়। তাঁর মতে, সিরিয়ার তেলক্ষেত্র উন্নয়নে কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। কিন্তু দামেস্ক সরকার যেহেতু এমন প্রকল্পে অর্থ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাই বাইরের সহায়তা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে। এরপর ক্ষেত্রগুলোকে পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
তুরস্ক সরকার বারবার ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইনকে কিরকুক থেকে বসরা পর্যন্ত সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও তুলেছে। কিন্তু ইরাকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আগের ইরাকি সরকারগুলো ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ নামে একটি প্রকল্পের পক্ষে ছিল। এর লক্ষ্য ছিল মহাসড়ক, রেলপথ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে বসরা অঞ্চলকে তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত করা।
ইরাকি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালাম জব্বার শাহাব বলেন, হরমুজ সংকটের পর বসরাকে ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করার রাজনৈতিক আগ্রহ অনেক বেড়েছে। তিনি জানান, ইরাক সরকারের মাসিক ব্যয় মেটাতে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার তেল রাজস্ব প্রয়োজন, যার মধ্যে সরকারি খাতের বেতনও রয়েছে। মার্চ মাসেই সরকারের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বাড়তি বেতনের চাপ সামাল দেওয়া যায়।’ কিন্তু বর্তমানে কিরকুক-সেইহান রুট দিয়ে দেশটি প্রতিদিন মাত্র ২ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে—যা বেতন, সামাজিক কল্যাণ ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। শাহাবের মতে, বসরা পাইপলাইন চালু হলে দক্ষিণ ইরাকের তেলের জন্য ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে নতুন রপ্তানি পথ খুলে যাবে, যা এখন বন্ধ হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে যেতে পারবে।
তবে তিনি সতর্ক করেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘এই পাইপলাইন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে ইরাকের হাতে এখন প্রয়োজনীয় অর্থ নেই। প্রকল্পটির জন্য ৬ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লাগতে পারে, এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হতে পারে।’
এ ছাড়া, পাইপলাইনটি দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাবে, যা এটিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকিতে ফেলবে। একই সঙ্গে ইরাকের বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ারও হয়ে উঠতে পারে। তবুও তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইরাকের নীতিনির্ধারকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাস্তব কারণ তৈরি করেছে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। সংঘাত শুরুর পর গত দেড় মাসে এই কৌশলগত জলপথে অন্তত ২২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শিপিং ডেটা সংস্থা কেপলার এবং এলএসইজির তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
১৬ মিনিট আগে
সম্প্রতি বেশ কিছু মার্কিন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, চীন ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। চীনের দাবি, এসব প্রতিবেদন ভিত্তিহীন এবং এই ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মেলোনির ডানপন্থী সরকার গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা করে আসছে। বিশেষ করে লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীনে কর্মরত ইতালীয় সেনাদের ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় রোম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ইরানের অন্তত ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি এই পরিমাণ জানান। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তা করার অভিযোগ
৫ ঘণ্টা আগে