
মেষ
আপনার অধিপতি মঙ্গল আজ তুঙ্গে, তাই সকাল থেকেই আপনার মধ্যে ‘বিপ্লবী’ ভাব দেখা দেবে। হয়তো পাঞ্জাবি পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে মনে ভাববেন, ‘আজ আমিই বাংলার নবাব’। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গিন্নি বা মায়ের নির্দেশে পান্তা ভাতের জন্য কাঁচালঙ্কা ডলে আপনার হাত জ্বলে যাওয়ার প্রবল যোগ আছে। কর্মক্ষেত্রে বা আড্ডায় আজ মেজাজ খিটখিটে হতে পারে যদি কেউ আপনার পাঞ্জাবির প্রশংসা না করে। প্রেমযোগ মাঝারি, তবে বিকেলের দিকে আইসক্রিম খাওয়ার অছিলায় সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব ঘুচতে পারে। রোদে বেশি টো-টো করবেন না, বৈশাখী ঝড় হুট করে আপনার সাধের ‘স্পাইক’ করা চুল তছনছ করে দিতে পারে।
বৃষ
শুক্র আজ আপনার ওপর সদয়, তাই অবয়বে আজ এক রাজকীয় আভা ফুটে উঠবে। তবে পকেটে শনির হালকা বক্রদৃষ্টি থাকায় ‘হালখাতা’ করতে গিয়ে নিজেই হালকা হয়ে যেতে পারেন। আজ লটারিতে টাকা না পেলেও কারও বিয়ে বা দাওয়াতে গিয়ে ফ্রি-তে বাটি ভর্তি খাসির মাংস পাওয়ার প্রবল যোগ আছে। পেটের দিকটা আজ একটু বেশিই বড় মনে হতে পারে, তাই পাঞ্জাবির বোতামের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার খাবারের ছবি দেখে বন্ধুরা হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে পারে। মিষ্টি দেখে ‘ডায়েট’ শব্দটা ডিকশনারি থেকে মুছে ফেলুন; আজ অন্তত রসগোল্লা আপনাকে হতাশ করবে না।
মিথুন
আপনি আজ বুদ্ধিতে বৃহস্পতি, কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতায় যম। পাঞ্জাবি পরবেন না কি টি-শার্ট? রমনায় যাবেন না কি এসি রুমে বসে ঘুমাবেন?—এই দোটানায় আপনার দুপুর কেটে যাবে। গ্রহ বলছে, আজ আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক-কমেন্টের সুনামি বয়ে যাবে, যদিও বাস্তবে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমানোর সময় বিল দেওয়ার ভয়ে আপনার মানিব্যাগটি হঠাৎ ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। পুরোনো কোনো প্রেমিকার সঙ্গে ভিড়ের মধ্যে দেখা হয়ে যেতে পারে, তাই সঙ্গে বর্তমান সঙ্গী থাকলে সতর্ক থাকুন। পুরোনো পাওনাদারের ফোন আজ ‘রং নাম্বার’ বলে কেটে দিন।
কর্কট
চন্দ্রের প্রভাবে আপনি আজ চরম আবেগপ্রবণ। পান্তা-ইলিশ খেতে গিয়ে ইলিশের কাঁটা বিঁধলে সেটাকে ‘জীবনের কঠিন সংগ্রাম’ বা ‘নিঠুর নিয়তি’ ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন না। পরিবারকে সময় দিন, তবে টিভি বা এসির রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে ছোট ভাইবোনের সঙ্গে বিবাদ এড়িয়ে চলুন, নাহলে কপালে ঝাড়ুর বারিও জুটতে পারে। আপনার চেহারায় আজ একটা মায়াবী ভাব থাকবে। নীল রঙের পাঞ্জাবি পরলে আজ আপনিই আপনার পাড়ার ‘হার্টথ্রব’। ফেসবুক স্ট্যাটাসে অতিরিক্ত দুঃখের কবিতা দেবেন না, লোকে ভাববে পেটে সমস্যা হয়েছে!
সিংহ
নিজেকে বনের রাজা ভাবতেই পারেন, কিন্তু আজ বৈশাখী গরমে আপনার ‘কেশর’ (চুল) ঘেমে ল্যাপ্টে একাকার হয়ে যাবে। আজ আপনার নেতৃত্বের গুণাবলি দেখা যাবে—বিশেষ করে কোন দোকানে ভিড় কম বা কোথায় ঠান্ডা আখের শরবত পাওয়া যাচ্ছে, সেটা খুঁজে বের করতে আপনিই দলের নেতা হবেন। আত্মবিশ্বাস ভালো, তবে অতিরিক্ত দর্পচূর্ণ হতে পারে যদি পাঞ্জাবির হাতা বা পায়জামা বেশি টাইট হয় এবং বসার সময় ‘ফট্’ করে কোনো শব্দ হয়। পকেটে সব সময় টিস্যু রাখুন, নাহলে পাঞ্জাবির খুট দিয়ে মুখ মোছার মতো শোচনীয় দশা হতে পারে।
কন্যা
আপনার নিখুঁত হওয়ার বাতিক আজ তুঙ্গে থাকবে। পাঞ্জাবিতে এক ফোঁটা চাটনি বা ঝোল পড়লে আপনার কাছে দিনটি মঙ্গলবারের বদলে অমাবস্যায় পরিণত হতে পারে। আজ পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হবে, যে আপনার পুরোনো ধার করা টাকার কথা মোক্ষম সময়ে মনে করিয়ে দিয়ে আপনার নববর্ষের মুড ‘তিরিক্ষি’ করে দিতে পারে। ঘরের সব জিনিস আজ আপনি গুছিয়ে রাখতে চাইবেন, যা অন্যদের বিরক্তির কারণ হতে পারে। রোমান্টিক যোগাযোগ শুভ, যদি আপনি অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে না হন। আজ ক্যালরি কাউন্ট করবেন না, শুধু কয়টা রসগোল্লা পেটে গেল সেই ‘স্কোর’ রাখুন।
তুলা
আপনি ভারসাম্য রক্ষা করতে ওস্তাদ। এক হাতে চার তলা মিষ্টির প্যাকেট আর অন্য হাতে পাঞ্জাবির কোঁচ সামলানো—আজকের দিনে এটাই আপনার প্রধান অলিম্পিক ইভেন্ট। প্রেমযোগ দারুণ শুভ, তবে সেটা কেবল তখনই কার্যকর হবে যদি আপনি সঙ্গীর অন্তত ১০০টি সুন্দর ছবি (সেলফি নয়) তুলে দিতে পারেন। আজ আপনার পকেটে টান পড়তে পারে, তাই মেলার ভিড়ে কেনাকাটা করার সময় সাবধান। কোনো অজানা ব্যক্তি মিষ্টি খাওয়াতে চাইলে খেয়ে নিন, তবে মানিব্যাগ সামলে! আজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বেশি সময় নষ্ট করবেন না, রূপ যা হওয়ার হয়ে গেছে।
বৃশ্চিক
আপনার মধ্যে আজ এক রহস্যময় শক্তি কাজ করবে। লোকজন দেখে ভাববে আপনি নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে খুব সিরিয়াস, কিন্তু আসলে মনে মনে হিসাব করছেন আর কতক্ষণ পর বাড়িতে বিরিয়ানি বা পোলাও রান্না শেষ হবে। ত্যাড়া কথায় আজ কাউকে ঘায়েল করবেন না, কারণ আজ পাল্টা কামড় খাওয়ার যোগ আছে। গোপন কোনো শত্রু আজ আপনাকে পচা ইলিশ খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে (রূপক অর্থে)। মেজাজ ঠান্ডা রাখুন। গাঢ় লাল রঙের পোশাক এড়িয়ে চলুন, নাহলে রাগী ষাঁড় বা রাগী ট্রাফিক পুলিশ—উভয়ের নজরে পড়তে পারেন।
ধনু
ভ্রমণের যোগ প্রবল। কিন্তু সেই ভ্রমণ হতে পারে বড়জোর রান্নাঘর থেকে লিভিং রুম পর্যন্ত। আজ খুব দার্শনিক মেজাজে থাকবেন এবং অকারণেই সবাইকে জ্ঞান দিয়ে ‘শুভ নববর্ষ’ বলে জ্বালিয়ে মারবেন। আর্থিক উন্নতি হতে পারে যদি বড়দের পায়ে হাত দিয়ে সালাম বা প্রণাম করার অভিনয়টা নিখুঁতভাবে করতে পারেন। বিকেলের দিকে কোনো অচেনা উৎস থেকে বিরিয়ানির দাওয়াত আসার ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় আজ আপনিই প্রধান বক্তা। পাঞ্জাবির পকেটে রুমাল আর মোবাইল দুটোই শক্ত করে ধরে রাখুন।
মকর
আপনি আজ খুব হিসাবি এবং করপোরেট মাইন্ডের। নববর্ষের হুল্লোড়ের চেয়ে আপনি বেশি ভাবছেন কাল অফিসে কী কাজ আছে বা ল্যাপটপটা চার্জে আছে কি না। গ্রহরা বলছে, আজ একটু ‘হিল্লোল’ তুলুন। কাজ তো সারা জীবনই থাকবে, আজ নাহয় ডায়েট চার্টটা ছিঁড়ে ফেলে রসমালাইয়ের বাটিতে ডুব দিন।
গম্ভীর চেহারার কারণে লোকে আপনাকে মিষ্টি দিতে ভয় পেতে পারে। একটু হাসুন, দাঁত দেখা গেলে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। অন্তত আজকের জন্য ঘড়িটা খুলে রাখুন।
কুম্ভ
আপনার উদ্ভাবনী শক্তি আজ তুঙ্গে। হয়তো পান্তা ভাতের সঙ্গে চিজ বা মেয়োনিজ মিশিয়ে নতুন কোনো ‘ফিউশন রেসিপি’ আবিষ্কার করে ফেলবেন যা বাড়ির বিড়ালও খেতে চাইবে না। সমাজে আপনার মান-সম্মান বাড়বে, যদি আপনি ভিড়ের মধ্যে কারও পাঞ্জাবিতে পাড়া না দেন। আজ নতুন কোনো গ্যাজেট কেনার ইচ্ছা হতে পারে, কিন্তু পকেটে নজর দিলে সেই ইচ্ছা কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। নিজেকে বিজ্ঞানী ভাবা বন্ধ করে সাধারণ বাঙালির মতো লুচি-আলুরদম এনজয় করুন।
মীন
শনির সাড়েসাতি আপনার রাশির ওপর জাঁকিয়ে বসেছে বলে মনে হতে পারে যখন আপনি দেখবেন পছন্দের সাইজের পাঞ্জাবিটি অন্য কেউ কিনে নিয়ে গেছে। রাস্তায় চলতে গিয়ে হোঁচট খাওয়া বা মোবাইল হারিয়ে ফেলার ভয় আছে, তাই সেলফি তোলার সময় হাত শক্ত করে ধরুন। তবে চিন্তার কিছু নেই, আপনার মিষ্টি স্বভাব আজ সব বিপদ কাটিয়ে দেবে। কেউ আজ আপনাকে দামি গিফট দিতে পারে—যদিও সেটা আপনার কল্পনায় হওয়ার সম্ভাবনাই ৯৯ ভাগ। ইলিশের মুড়োটা আজ কৌশলে নিজের পাতেই রাখার চেষ্টা করুন, শেয়ার করবেন না!

বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। দিনটি ঘিরে কত পরিকল্পনা, কত-না আয়োজন! পরিকল্পনার অনেকটা জুড়েই রয়েছে পোশাক ও বিভিন্ন অনুষঙ্গ। এখন নববর্ষ উৎসবের ফ্যাশনে আইকনে পরিণত হয়েছে গামছা প্রিন্ট বা গামছা ডিজাইনের নকশা করা পোশাক ও অনুষঙ্গ।
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলা স্বাদ! এটি শুনে অনেকে ফিক করে হেসে ফেলেন। আছে নাকি বাংলার স্বাদ? মধুমাস শেষ। আজ থেকে শুরু গ্রীষ্মকাল—প্রখর রুদ্র গ্রীষ্ম। এ সময় নাকি খাবারে বৈচিত্র্য থাকে না। সে জন্যই প্রাচীন বাংলায় গড়ে উঠেছিল ‘থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়’ নামের প্রবাদটি।
৬ ঘণ্টা আগে
কথায় কথায় আমরা বলি, আমাদের নিজস্ব পানীয় নেই। কিন্তু এই গ্রীষ্মের জন্য নিজস্ব পানীয় আছে। মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যগুলোতে সেগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায় কখনো ‘আমের পানা’ কিংবা কখনো ‘বেলের পানা’ নামে। মূলত ‘পানা’ শব্দটি দিয়ে পানীয় বোঝানো হতো।
৬ ঘণ্টা আগে
সেই ষাটের দশক। আজ থেকে প্রায় ষাট বছর আগের সময়ে আমাদের নতুন বছর শুরু হতো পয়লা চৈত্র থেকে। শুনতে অবাক লাগলেও আমাদের আমলের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে বুঝবেন, আমি কতটা ঠিক বলছি।
৭ ঘণ্টা আগে