
আট বছর বয়সী মোহাম্মদ আমিনের মৃত্যুর দৃশ্যটি তার মা সুঘরার স্মৃতিতে আজও দগদগে। প্রচণ্ড জ্বরে যখন আমিনের শরীর পুড়ছিল, সে বৃষ্টির মধ্যে গিয়ে শুয়ে থাকতে চাইত। ‘ফুটন্ত তেলে ফেলে দেওয়া মাছের মতো’ যন্ত্রণায় ছটফট করত। মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে ধরা পড়ে, আমিন এইচআইভি পজিটিভ। অথচ তার পরিবারের কারও এই রোগ নেই।
আমিনের বোন ১০ বছর বয়সী আসমা এখন তার ভাইয়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। আসমা নিজেও এখন মরণঘাতী এই ভাইরাসের বাহক। তৌনসা শহরের অন্তত ৩৩১টি শিশুর গল্প এখন এমনই বিষাদময়। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে এই বিপুলসংখ্যক শিশু এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। বিবিসি আই-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, তৌনসার তহসিল হেডকোয়ার্টার হাসপাতালই সম্ভবত এই মরণব্যাধির উৎস।
গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়া ভয়ংকর চিত্র
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল তারা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। কিন্তু বিবিসির প্রতিনিধিরা ২০২৫ সালের শেষভাগে ওই হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ৩২ ঘণ্টার গোপন চিত্রধারণ করেন। সেখানে যা দেখা গেছে, তা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগে অকল্পনীয়!
অন্তত ১০টি পৃথক ঘটনায় দেখা গেছে, নার্সরা একবার ব্যবহার করা সিরিঞ্জ দিয়ে আবারও ভায়াল (শিশি) থেকে ওষুধ ভরছেন। এতে ভায়ালটি সংক্রামিত হচ্ছে এবং পরবর্তী রোগীদের শরীরে অবলীলায় ভাইরাস প্রবেশ করছে।
চারবার দেখা গেছে, একই ভায়াল থেকে ওষুধ নিয়ে সরাসরি ভিন্ন ভিন্ন শিশুকে দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসক ও নার্সরা জীবাণুমুক্ত গ্লাভস ছাড়াই রোগীদের স্পর্শ করছেন। অন্তত ৬৬ বার দেখা গেছে গ্লাভস ছাড়াই ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের গায়ের জামার ওপর দিয়েই সুঁই ফোটানো হচ্ছে।
আরও দেখা গেছে, কাউন্টারগুলোতে ব্যবহৃত সুঁই ও সিরিঞ্জ যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। এমনকি হাসপাতালের আবর্জনার ঝুড়িতে একজন নার্সকে খালি হাতেই সিরিঞ্জ খুঁজতে দেখা গেছে।
পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. আলতাফ আহমেদ এই ফুটেজগুলো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা যদি নতুন সুঁইও লাগায়, সিরিঞ্জের ভেতরের অংশে আগের রোগীর রক্ত বা ভাইরাস থেকে যায়। ফলে এটি ব্যবহার করা মানেই হচ্ছে ভাইরাসকে অন্য দেহে ঢুকিয়ে দেওয়া।’
আগা খান বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অধ্যাপক ড. ফাতিমা মীর মনে করেন, এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা। তিনি জানান, পাকিস্তানে অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন ব্যবহারের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। অনেক সময় রোগীরা নিজেরাই ইনজেকশন চায়, আর চিকিৎসকেরাও কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তা দেন। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে সরঞ্জামের অভাবের কারণে নার্সরা ‘খরচ কমানোর’ জন্য একই সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
ব্যক্তিগত ক্লিনিকের চিকিৎসক ড. গুল কায়সরানি প্রথম এই ব্যাপক সংক্রমণটি লক্ষ্য করেন। তিনি জানান, তাঁর ক্লিনিকে আসা প্রায় ৬৫-৭০টি শিশুর এইচআইভি রিপোর্ট পজিটিভ আসে, যাদের প্রায় সবাই তৌনসার তহসিল হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। একজন বাবা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি নার্সদের সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহার করতে দেখে বাধা দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে থামিয়ে দেওয়া হয়।
তবে হাসপাতালটির বর্তমান প্রধান ড. কাসিম বুজদার বিবিসির ফুটেজগুলোকে ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমার হাসপাতাল শিশুদের জন্য নিরাপদ।’ অথচ তাঁর পূর্বসূরি ড. তৈয়ব ফারুক চন্দিও-কে একই অভিযোগে গত বছরের মার্চে বরখাস্ত করা হলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় তাঁকে আবারও তৌনসার উপকণ্ঠে একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানজুড়ে একই আতঙ্ক
২০১৯ সালে সিন্ধু প্রদেশের রাতোদেরো শহরে একইভাবে ১ হাজার ৫০০ শিশু এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছিল। সম্প্রতি করাচির ‘কুলসুম বাই বালিকা’ সরকারি হাসপাতালেও ৮৪টি শিশুর এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ২ বছর বয়সী মিকাশার পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসকেরা একই সিরিঞ্জ দিয়ে একের পর এক শিশুকে ইনজেকশন দিচ্ছিল।
পাঞ্জাব সরকারের তথ্য অনুযায়ী, তৌনসার ৩৩১টি এইচআইভি সংক্রমণের অর্ধেকেরও বেশি ঘটনার কারণ ‘দূষিত সুঁই’। আসমাদের মা সুঘরা জানান, সমাজে এই রোগ নিয়ে ব্যাপক ঘৃণা ও লজ্জা রয়েছে। পাড়া-প্রতিবেশীরা এখন আসমার সঙ্গে তাদের সন্তানদের খেলতে দেয় না। রুগ্ণ শরীরে আসমা তার মাকে প্রশ্ন করে, ‘মা, আমার কী হয়েছে? সবাই কেন আমাকে দূরে সরিয়ে দেয়?’
আসমার স্বপ্ন সে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। সে চায় এমন এক ডাক্তার হতে যে ভুল করেও কোনো শিশুর শরীরে বিষাক্ত সুঁই ফোটাবে না। কিন্তু পাকিস্তানের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আসমাদের মতো অগণিত শিশুর সেই স্বপ্নকে আজ মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০ শিশুর। তাদের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৭টি, বরিশালে পাঁচ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনটি করে ছয়টি এবং ময়মনসিংহে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
১ দিন আগে
এক সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম এখন দেশটির জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর সর্বশেষ তথ্য ও গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
১ দিন আগে
দেশে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। বছরে দুবার এই ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছরে হয়েছে দুবার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কৌশলগত পরিকল্পনা বা ওপির মাধ্যমে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল কেনা ও বিতরণ হতো।
২ দিন আগে
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন শিশু ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ বয়সে হামে আক্রান্ত হওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও সম্প্রতি এমন ঘটনা বাড়ছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মায়ের শরীর থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শিশুর মধ্যে যথাযথভাবে সঞ্চারিত
২ দিন আগে