Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধ: কয়টি জাহাজ হরমুজ পার হতে পেরেছে, কয়টি হামলার শিকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরান যুদ্ধ: কয়টি জাহাজ হরমুজ পার হতে পেরেছে, কয়টি হামলার শিকার
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। ছবি: এএফপি

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। সংঘাত শুরুর পর গত দেড় মাসে এই কৌশলগত জলপথে অন্তত ২২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শিপিং ডেটা সংস্থা কেপলার এবং এলএসইজির তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

তবে সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হলেও আজ অন্তত তিনটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে পানামার পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘রিচ স্টারি’ এবং ‘এলপিস’ নামের দুটি ট্যাংকারও এই জলপথ অতিক্রম করেছে। যেহেতু এই জাহাজগুলো ইরানি বন্দরে যাচ্ছে না, তাই এগুলো মার্কিন নৌ অবরোধের আওতায় পড়েনি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন রুট বা মানচিত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমান সংঘাতের কারণে মূল ট্রাফিক জোনে বিভিন্ন ধরনের জাহাজবিধ্বংসী মাইন থাকার আশঙ্কায় আগের রুটটিকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এর আগে গত ২ মার্চ আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কেউ নিয়ম অমান্য করলে তাদের জাহাজে ‘আগুন ধরিয়ে দেওয়া’ হবে।

জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথে দৈনিক গড়ে ১০০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৭৯টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মাত্র ৪৫টি জাহাজ এই পথে যাতায়াত করেছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি এলাকায় ২২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় ৮টি, ওমানের জলসীমায় ৬টি, ইরাক ও কাতারের জলসীমায় ২টি করে জাহাজ হামলার শিকার হয়। এ ছাড়া কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ইরানের জলসীমায় একটি করে জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

এই যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েক শ ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে। এর ফলে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং মূল্যের দিক থেকে ৭০ শতাংশ সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব অনেক বেশি। যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি ইতিহাসের বৃহত্তম জ্বালানি সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই হরমুজ প্রণালি। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ধমনি হিসেবে পরিচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবাহিত হয়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশের ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের প্রভাবের প্রতিক্রিয়া এসব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারেও পড়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নীরবে পেট্রোডলার চুক্তি বাতিল সৌদির, পেট্রোইউয়ানের উত্থান ঠেকাতেই ইরান যুদ্ধ

কুষ্টিয়ায় পীরকে হত্যা: সাবেক শিবির নেতার হুকুমে হামলা চালায় আসামিরা

অবরোধে ক্ষুব্ধ ইরান আটকাতে পারে আরেক জলপথ, সিদ্ধান্ত পাল্টাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির চাপ

বিসিবির অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার ‘পুরস্কার’ জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ডকে দিচ্ছে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনা প্রেসিডেন্টের চার প্রস্তাব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত