Ajker Patrika

খামেনির জানাজায় মোদিকে আমন্ত্রণ, কূটনীতির কঠিন পরীক্ষায় ভারত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ২০: ৩৩
খামেনির জানাজায় মোদিকে আমন্ত্রণ, কূটনীতির কঠিন পরীক্ষায় ভারত
২০১৬ সালের মে মাসে তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই ইরানের বিভিন্ন শহর এবং ইরাকে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এর পরদিন, অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৭ জুলাই কোয়ম শহরে আরেকটি জানাজা হবে।

কোয়মের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ৯ জুলাই আরেকটি জানাজা শেষে বিখ্যাত ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে তেহরানের এই আমন্ত্রণ নয়াদিল্লিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে।

কেন এই আমন্ত্রণ ভারতের জন্য কৌশলগত পরীক্ষা

ভারত ও ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। জ্বালানি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি ভারতের জন্য ইরানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে, পাকিস্তানের ভূখণ্ড এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যের একমাত্র পথ হচ্ছে ইরানের চাবাহার বন্দর—যেখানে ভারত বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত এবং সামরিক অংশীদারত্ব এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। খামেনি যেহেতু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানে (অপারেশন এপিক ফিউরি) নিহত হয়েছেন, তাই এই জানাজায় মোদি বা ভারতের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে ক্ষুব্ধ করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানি বলেছেন, খামেনির জানাজা নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের নীরবতা তেহরানের চোখে একধরনের কূটনৈতিক ঋণ তৈরি করেছে। তবে জানাজায় ভারতের বেশি হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি আবার ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ দিক হলো শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়। ইরানের পর বিশ্বজুড়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোতেই সবচেয়ে বেশি শিয়া ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস। আয়াতুল্লাহ খামেনি বিশ্বব্যাপী শিয়া মুসলিমদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হওয়ায় ভারতের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর আবেগ তাঁর জানাজার সঙ্গে যুক্ত। খামেনির মৃত্যুর পর ভারতের বহু জায়গায় বড় ধরনের শোক মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুই দিক থেকেই ভারসাম্য রক্ষা করা ভারতের জন্য জরুরি।

মোদি কি ইরান যাবেন

কূটনৈতিক সূত্র ও বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই জানাজায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ছাড়া ওই সময়ে মোদির আগে থেকে নির্ধারিত বহুপক্ষীয় বিদেশ সফর রয়েছে।

তবে এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে যখন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন ভারত এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল এবং তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে তেহরানে পাঠিয়েছিল। এবারও খামেনির জানাজায় কোনো সিনিয়র মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

ভারত বরাবরই যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটে নিজস্ব ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয়, কোনো পক্ষকে অসন্তুষ্ট না করে নয়াদিল্লি এই কূটনৈতিক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলায় কীভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত