
অপারেশন সিঁদুরের সময় রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতের সীমান্তের ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে আসতে পারেনি বলে দাবি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তান এস-৪০০-এর অবস্থান জানতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এ জন্য তারা ভারতের ভেতরে থাকা ‘গুপ্তচর’ ও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় করেছিল।
সাবেক এয়ার মার্শাল মিশ্র বলেন, ‘পাকিস্তানিরা এই এস-৪০০গুলো কোথায় রয়েছে, তা জানতে মরিয়া ছিল। তারা সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে। তারা অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও স্যাটেলাইট সহায়তা পাচ্ছিল।’ তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তবে এর আগে ভারতের ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং জানিয়েছিলেন, চীন তার ‘অল ওয়েদার ফ্রেন্ড’ বা সব সময়ের বন্ধু পাকিস্তানকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে রিয়েল-টাইম তথ্য দিচ্ছিল।
অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র বলেন, ‘তারা (পাকিস্তান) যখনই আকাশে উঠেছে, এস-৪০০ তাদের গুলি করে নামিয়েছে। তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ছিল এস-৪০০। এস-৪০০গুলো কোথায় অবস্থান করছে, তা খুঁজে বের করতে তারা ভারতের ভেতরে থাকা গুপ্তচর ও স্লিপার সেলও সক্রিয় করেছিল।’ যদিও বাস্তবে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত পাকিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ভারতীয়রাও এই প্রমাণ দিতে পারেনি।
এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাকে ভারত ‘সুদর্শন চক্র’ নামেও অভিহিত করে, রাশিয়ার তৈরি একটি অত্যাধুনিক, মোবাইল এবং দীর্ঘপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল বা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। বিশ্বে বর্তমানে সক্রিয় সবচেয়ে কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এস-৪০০ আধুনিক বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় একাধিক স্তরের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুর ছিল ভারতের পরিচালিত একাধিক সামরিক হামলার অভিযান। ২০২৫ সালের ৭-৮ মে রাতে এসব হামলা চালানো হয়। এর আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবে ভারত এই অভিযান পরিচালনা করে।
জিতেন্দ্র মিশ্র বলেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত সরকার ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিল। তবে তাদের বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘নির্দেশনা ছিল, কোনো ধরনের কোল্যাটারাল ড্যামেজ বা পার্শ্বক্ষয়ক্ষতি হওয়া উচিত নয়। আমরা চাইনি সাধারণ নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। শুধু সন্ত্রাসী এবং তাদের সহযোগী বা নির্দেশদাতাদের শাস্তি দিতে হবে। আমরা যুদ্ধবাজ রাষ্ট্র নই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের বিধিনিষেধ ছিল না। কীভাবে যুদ্ধ করতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।’ অবসরপ্রাপ্ত এই এয়ার মার্শাল আরও দাবি করেন, ভারত পাকিস্তানের যেকোনো জায়গায় হামলা চালাতে সক্ষম ছিল, কিন্তু পাকিস্তানের তা ঠেকানোর মতো কিছু করার ছিল না।
মিশ্র বলেন, ‘তারা (পাকিস্তান) যা দেখতে পারত, তার একমাত্র উপায় ছিল আকাশে থাকা রাডারের মাধ্যমে। আমার এস-৪০০ অপারেটর আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি গুলি করতে পারবেন কি না। আমি বলেছিলাম, “গুলি করুন।” এরপর তিনি গুলি করেন এবং আমরা সেটিকে ৩১৪ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত করতে সক্ষম হই।’ মিশ্রের দাবি, এটি ছিল ইতিহাসে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ দূরত্বের সফল ধ্বংস বা ‘সারফেস-টু-এয়ার কিল’।
ভারত ও রাশিয়া ২০১৮ সালে পাঁচটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার জন্য ৫ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং ব্যাপক ভূমিধসে অন্তত ৩৯২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে দুই দেশের সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৬৯ জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ। উদ্ধারকারী দল ও সামরিক হেলিকপ্টার দিয়ে নেপাল-চীন সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ–এর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেছেন। রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আগেই ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে মস্কোকে রাজি করানোই ছিল তাঁর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে...
৩ ঘণ্টা আগে
নেপালের পার্বত্য এলাকায় বড় একটি ব্যারিয়ার লেক বা নদীর স্বাভাবিক প্রভাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। হ্রদটি ইতিমধ্যে উপচে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আগামী কয়েক দিনে আরও পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করার কারণে এটির ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে