Ajker Patrika

নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার
নেপালের নৌয়াকোট জেলার ত্রিশুলীতে আকস্মিক বন্যার পর এক্সকাভেটর দিয়ে কাদা সরানোর কাজ করছেন কর্মীরা। ছবি: এএফপি

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৬৯ জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ। উদ্ধারকারী দল ও সামরিক হেলিকপ্টার দিয়ে নেপাল-চীন সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় ১ হাজার ৪৬৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই বিদেশি পর্যটক। ভারতীয় নাগরিকরাই নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ। নেপালের নতুন পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৭৮ জন নাগরিক এখনো নিখোঁজ। আরও ১১ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে হিমালয়ে ট্রেকিং করতে যাওয়া বিদেশি পর্যটক এবং তিব্বতের পবিত্র তুষারঢাকা কৈলাস পর্বতে যাওয়া বহু হিন্দু তীর্থযাত্রীও রয়েছেন।

নেপালে বন্যার পরিস্থিতির মধ্যে উজানে আরও একটি বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের তিব্বত অঞ্চলে চীন ‘লেভেল-৪’ দুর্যোগ সতর্কতা জারি করেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বুধবারের ভূমিধসের পর দুটি নদীর মিলনস্থলে একটি প্রাকৃতিক জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে এই জলাধার ভেঙে গেলে নিচের দিকে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, ছোটচেন খোলা ও পেরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে এই জলাধার তৈরি হয়েছে। দুটি নদীরই উৎস তিব্বতে এবং পরে এগুলো নেপালে প্রবেশ করে ভোতে কোশি নদী ব্যবস্থার অংশ হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই প্রাকৃতিক জলাধারে আনুমানিক ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। ওই অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জলাধারে পানির প্রবাহ প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে জলাধারটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জলাধারটি ভেঙে গেলে ভয়াবহ পানির স্রোত নিচের দিকে নেমে যেতে পারে। এতে চীন-নেপাল সীমান্তের গিরং বন্দরসহ নিচু এলাকার আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। চীনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থায় মোট চারটি সতর্কতা স্তর রয়েছে। এর মধ্যে লেভেল-১ সর্বোচ্চ এবং লেভেল-৪ সর্বনিম্ন সতর্কতা স্তর।

নেপাল-চীন সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় এই সপ্তাহে হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ পানি ও কাদার স্রোত কয়েকতলা ভবনের সমান উচ্চতায় নেমে আসে। এতে বহু জনবসতি তলিয়ে যায়। দুর্যোগের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানি দ্রুত এগিয়ে আসার আগে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছেন। পরে প্রবল স্রোত তাদের ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা গ্রাস করে নেয়। অনেক ভবন ও সেতু পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত