
হাম আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সরকার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন বাচ্চাগুলো হারালাম, কোথায় সমস্যা ছিল, কোনো গাফিলতি ছিল কি না—সবই তদন্তে দেখা হবে।’
তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেশবাসীকে জানানোর কথা উল্লেখ করলেও তদন্ত কমিটিতে কারা আছেন ও কবে গঠন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
আজ শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) অনুষ্ঠিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
কারও দায় পাওয়া গেলে শাস্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। জনগণের জানার অধিকার আছে।’
গোলটেবিলে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়াট্রিক ইনফেকশাস ডিজিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মির্জা জিয়াউল ইসলাম। তিনি হামের প্রাদুর্ভাব, চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতি সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘হাম-রুবেলার মতো রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন জরুরি হলেও দেশে ২০১৯ সালের পর আর কোনো জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়নি।’
তিনি জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের রোগের ধরন বিশ্লেষণে আইইডিসিআরকে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাম ও উপসর্গে মৃত শিশুদের ‘ডেথ রিভিউ’ করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘দেশে মহামারির পরিস্থিতি তৈরি হলেও তা স্বীকার করতে অনীহা দেখা যায়। বাস্তবতা মেনে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হয়।’
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও বাংলাদেশের মতো উচ্চ মৃত্যুহার উদ্বেগজনক।’ তাঁর মতে, চলমান পরিস্থিতি আরও এক থেকে দুই মাস স্থায়ী হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় পোলিও ও হাম-রুবেলা ল্যাবরেটরির সাবেক প্রধান ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ‘ভ্যাকসিনেশন গ্যাপ, ইমিউনিটি ঘাটতি এবং শিশুকে বুকের দুধ কম খাওয়ানোর কারণে হামের সংক্রমণ বেড়েছে।’
বিএমইউর নবজাতক বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, ‘শিশুকে প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া জরুরি।’
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন—স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুস সবুর খান, জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারি, বিএমইউর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ প্রমুখ।

হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর চলে গেছে দুই মাস সময়। কিন্তু এখনো সংক্রমণ বা মৃত্যু আশানুরূপ হারে কমেনি। হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যাও স্থিতিশীল হয়নি।
৬ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১৯ জন। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯১ জনের। এ নিয়ে মোট ৬১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
প্রতিবছর ৫ জুন ঘুরেফিরে আসে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ব্যানার, ফেস্টুন আর র্যালির চিরাচরিত আনুষ্ঠানিকতায় আমরা পরিবেশ রক্ষার কথা বলি। কিন্তু একজন চিকিৎসকের চোখে, বিশেষ করে একজন মাইক্রোবায়োলজিস্টের লেন্স দিয়ে যখন আমি এই চেনা পরিবেশের দিকে তাকাই, তখন কেবল প্লাস্টিকের বর্জ্য বা ধোঁয়া দেখি না; আমি দেখি...
১৫ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে নতুন ধরনের ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ টিকা। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, এটি করোনাভাইরাসের বিস্তৃত পরিসরের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল মিলেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে