রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করার অর্থ হলো আপনার প্রিয় খাবার ত্যাগ করা কিংবা কঠোর নিয়ম মেনে চলা নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার একজন মানুষের শরীরকে শক্তি বাড়িয়ে দেয় এবং ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। এই চারটি মূল উপাদান শরীরে সঠিক মাত্রায় থাকলে আপনি একটি সুস্থ ও কর্মময় জীবন যাপন করতে পারবেন। এখানে কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি জোগায়। প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হজমের গতি কমিয়ে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রোধ করে। ফাইবার হজম শক্তি ভালো করে, হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে এবং পেট ভরা অনুভব করায়। এই চারটি উপাদান একসঙ্গে থাকলে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণ এবং সন্তুষ্টি বোধ করবেন। এই সমন্বয় রক্তে শর্করাকে ধীরে ধীরে বাড়তে সাহায্য করে এবং আপনার শক্তিকে স্থির রাখে।
উপাদানগুলো কীভাবে পাতে রাখবেন
কার্বোহাইড্রেটের জন্য ভাত, রুটি, আলু, ওটস, কুইনোয়া খেতে হবে। প্রোটিনের জন্য খেতে হবে মুরগি, মাছ, ডিম, টোফু, ডাল বা শিম। আমাদের সবার জানা, শাকসবজিতে প্রচুর ফাইবার থাকে। এ ছাড়া ফল ও শস্য খেতে হবে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জন্য খাওয়া যেতে পারে পনির, বীজ, বাদাম, জলপাই তেল।
সংযোজনের ওপর জোর দিন, বর্জন নয়
সব সময় যে খাদ্যতালিকা থেকে খাবার বাদ দেবেন, এমন নয়; বরং খাদ্যতালিকায় পছন্দের খাবার যোগ করুন। তবে সে ক্ষেত্রে ধরনটা হবে ভিন্ন। আপনি যদি ভাত-ডাল খেতে ভালোবাসেন, তবে তার সঙ্গে অতিরিক্ত সবজি যোগ করুন। সকালের খাবারের সঙ্গে ডিম রাখুন। শীতকালীন সবজি হিসেবে টমেটো যোগ করুন। ধরুন, পাস্তা আপনার পছন্দ। সেটির সঙ্গে অতিরিক্ত সবজি এবং লিন প্রোটিন যোগ করুন। ফল খাওয়ার সময় সঙ্গে বাদাম মিশিয়ে নিতে পারেন। এই ছোট ছোট সংযোজন আপনার প্রিয় স্বাদের পরিবর্তন না করে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।
স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস
বিকেলের ক্লান্তি কিংবা গভীর রাতের ক্ষুধা এড়াতে স্ন্যাকসেও একই নীতি মেনে চলুন। এ সময় চারটির মধ্যে কমপক্ষে দুটি মূল উপাদান রাখুন। কার্ব শক্তি দেবে, আর প্রোটিন বা ফ্যাট হজমপ্রক্রিয়া ধীর করবে। যেমন কোনো ফল দিয়ে টক দই কিংবা পিনাট বাটার দিয়ে কলা খেতে পারেন। টক দইয়ের সঙ্গে ফল খেলে তা প্রোটিন ও ফাইবারের চাহিদা পূরণ করবে। আর পিনাট বাটার ও কলার মাধ্যমে কার্ব, ফ্যাট ও প্রোটিন শরীরে প্রবেশ করবে। এ ছাড়া বাদাম, বীজ ও ড্রাই ফ্রুটস খেতে পারেন; যা ফ্যাট, ফাইবার ও কার্বসমৃদ্ধ একটি নাশতা হয়।
কৌতূহলী হোন, বিচারক নয়
যদি কোনো খাবারের পর আপনার রক্তে শর্করা বেড়ে যায়, তবে এটিকে ব্যর্থতা না ভেবে তথ্য হিসেবে গ্রহণ করুন। সঠিক ব্যালেন্স পেতে চাইলে খাবারে ফাইবার যোগ করে দেখুন। অথবা খাবারের সময় পরিবর্তন করে দেখুন। কিংবা একসঙ্গে বিভিন্ন খাবার খেয়ে দেখতে পারেন। মনে রাখবেন, মানসিক চাপ, ঘুম, হরমোন এবং আরও অনেক কিছু রক্তে শর্করার মাত্রা প্রভাবিত করতে পারে। তাই একক সংখ্যার পরিবর্তে প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করুন। যদি সবকিছু অতিরিক্ত মনে হয়, তাহলে শুধু একটি ছোট পদক্ষেপ নিন। প্রথমে শুধু ফাইবার যোগ করা শুরু করতে পারেন। আপনার নিয়মিত খাবারের সঙ্গে সবজি যোগ করুন। রাতারাতি সব খাবারে পরিবর্তন আনার দরকার নেই। রক্তে শর্করা এবং মানসিক শান্তি—উভয়ের জন্য ছোট ও ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলোই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে।
সূত্র: হেলথ লাইন

চিকিৎসা সেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, বরং ডাক্তাররাই মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবেন।
১৮ মিনিট আগে
স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, বেড়েছে গড় আয়ু। তবে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
৪ দিন আগে
শীতকে বিদায় জানিয়ে চলে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতিতে ছড়াচ্ছে উষ্ণতা। এই অবস্থায় ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে অনেকেই এখন সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করলেই রোগীর কষ্ট কিছুটা কমানো সম্ভব।
৪ দিন আগে
প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নটর ডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান হয়ে গেল। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সার্বিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়...
৫ দিন আগে