জীবনের প্রথম এক হাজার দিন বা প্রায় তিন বছর চিনি না খেলে যেকোনো ধরনের রোগের ঝুঁকি কমে। নতুন এক গবেষণায় তেমনটিই জানিয়েছেন গবেষকেরা।
প্রতিদিন হোক বা উৎসব আয়োজন, চিনিযুক্ত খাবার বেশির ভাগ মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে। অথচ আমাদের জানা, চিনি হলো মানুষের অনেক রোগের কারণ। তাই চিনিকে বলা হয় হোয়াইট পয়জন বা সাদা বিষ।
চিনিযুক্ত খাবার শিশুরা বিশেষ পছন্দ করে। মায়ের দুধের পর শিশুরা যখন অন্য খাবার শুরু করে, তখন থেকে তাদের চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া শুরু। এ শুরুর আর শেষ নেই; বরং দিনে দিনে বাড়তে থাকে চিনি খাওয়ার প্রবণতা।
কিন্তু গবেষণা বলছে, শিশুকে যদি জীবনের প্রথম ১ হাজার দিন বা প্রায় তিন বছর চিনি থেকে দূরে রাখা যায়, তবে টাইপ ২ ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য অনেক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। সম্প্রতি ‘সায়েন্স জার্নালে’ প্রকাশিত এক গবেষণা এমন কথাই বলছে।
গবেষণায় আরও বলা হচ্ছে, গর্ভধারণ থেকে দুই বছর পর্যন্ত যদি শিশুকে চিনি থেকে দূরে রাখা যায়, তবে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে যায় ৩৫ শতাংশ। শুরুতেই যদি চিনি থেকে শিশুকে দূরে রাখা না যায়, তবে পরবর্তী জীবনে এর আসক্তি বাড়তে থাকবে।
গবেষক দল যুক্তরাজ্যে ১৯৫৩ সালের আগে ও পরে জন্ম হওয়া শিশুদের নিয়ে একটি সমীক্ষা পর্যবেক্ষণ করে। কারণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় যুক্তরাজ্যে চিনিসহ বেশ কিছু খাবার কেনার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি চিনি কেউ কিনতে পারত না। কিন্তু ১৯৫৩ সালে এই অস্থায়ী আইন উঠে যায়। এতে চিনি খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। এ সময় প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক চিনির ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ইউকে বায়োব্যাংকের স্বাস্থ্য তথ্য থেকে গবেষকেরা এমন তথ্য পান। এই সংস্থা বায়োমেডিকেল ডেটাবেইস তৈরি ও গবেষণা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ৬ বছর ধরে ১৯৫১ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৫৬ সালের মার্চের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা যুক্তরাজ্যের প্রায় ৬০ হাজার ১৮৩ জনের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করে।
গবেষণায় দেখা যায়, চিনি কেনার পরিমাণ যে সময় নির্দিষ্ট ছিল, সে সময় জন্মানো শিশুদের মধ্যে স্থূলতার ঝুঁকি কমেছে ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে চিনি কেনার পরিমাণ বাড়ার পর যারা জন্মেছে, তাদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়েছে।
এ প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তাদেজা গ্র্যাকনা সিএনএনকে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যে চিনির সংকটের মধ্য দিয়ে আমরা গবেষণার জন্য একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ পেয়েছি।’
টেনেসি হেলথ সায়েন্স সেন্টারের পেডিয়াট্রিকসের অধ্যাপক ড. মার্ক কর্কিনস বলেন, ‘অনেক বছর থেকে মিষ্টির স্বাদের
জন্য মানুষ ফলের দিকে ঝুঁকেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে চিনিযুক্ত খাবারের আসক্তি তৈরি হয়। মানুষ এখন একটি ফলের চেয়ে সেই দাম দিয়ে চকলেট খেতেপছন্দ করে।’
কিন্তু শিশুকাল থেকে; বিশেষ করে জীবনের প্রথম ১ হাজার দিন চিনি না খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করা গেলে জীবনে অনেক রোগের চিকিৎসারই দরকার নেই বলে মনে করেন গবেষকেরা।
সূত্র: সিএনএন

‘মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই’—এটি বিশেষ করে নবজাতক এবং ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের বাবা-মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্তা। মায়ের দুধ থেকে শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করে। কিন্তু দেশে ছোট শিশুদের একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের হার (শুধু মায়ের দুধ পান করা) সাম্প্রতিক...
৮ ঘণ্টা আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকের হার, হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ গ্রন্থির সমস্যায় হাইপোথাইরয়েডিজম এবং থাইরয়েড ক্যানসারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে থাইরয়েডজনিত রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১০ ঘণ্টা আগে
কঙ্গোতে (গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, প্রাথমিক ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।
১২ ঘণ্টা আগে
দেশের স্বাস্থ্য খাতে শুধু বাজেট বৃদ্ধি নয়, বরং বরাদ্দ করা অর্থের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহি ও আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে বাজেট বৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।
১৩ ঘণ্টা আগে