Ajker Patrika

নবজাতকের থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত: দাবি চিকিৎসকদের

  • থাইরয়েড গ্রন্থির সুস্থতা শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ
  • প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীই চিকিৎসার বাইরে রয়েছে
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নবজাতকের থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত: দাবি চিকিৎসকদের
রাজধানীর বিএমইউতে বিটিএস এবং বিএইচআরএফ যৌথ আয়োজনে এক গোলটেবিল বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশে থাইরয়েডজনিত রোগে আক্রান্তের হার প্রায় ২০ শতাংশ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশ নারী। প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীই চিকিৎসার বাইরে রয়েছে। এ অবস্থায় নবজাতকের জন্মের পরই থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (নিনমাস) বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) যৌথ আয়োজনে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।

২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’-এর অংশ হিসেবে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। এ ছাড়া আক্রান্তদের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে। থাইরয়েড মানবশরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি। এটি গলায় থাকে। এ গ্রন্থি তিন ধরনের জরুরি হরমোন (একধরনের তরল রাসায়নিক) নিঃসরণ করে থাকে।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক ছিলেন নিনমাস পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল বারী। তিনি বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকের হার, হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ গ্রন্থির সমস্যায় হাইপোথাইরয়েডিজম এবং থাইরয়েড ক্যানসারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে থাইরয়েডজনিত রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো পরীক্ষা না করানোর কারণে অনেক রোগী জটিল অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে।

অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে থাইরয়েড পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি—জন্মের পর, বয়ঃসন্ধিকালে, গর্ভধারণের আগে এবং ৫০ বছর বয়সের পর। এর মধ্যে নবজাতকের ক্ষেত্রে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে তিনি মত দেন।

বিটিএসের সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল বারী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা, সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ফরিদুল আলম, সহসভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুস সাত্তার, বিএমইউর সহযোগী অধ্যাপক শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক জেসমীন ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক পাপড়ি মুৎসুদ্দী, সহকারী অধ্যাপক তপতী মন্ডল এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ প্রমুখ।

গোলটেবিল বৈঠক শেষে দুপুরে নিনমাসে থাইরয়েড-বিষয়ক একটি পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এফ এম সিদ্দিকী বলেন, থাইরয়েড মানবদেহের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অর্গান। থাইরয়েডজনিত সমস্যা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন এবং অ্যালায়েড সায়েন্সেস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ ধরনের আয়োজন থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে সর্বশেষ চিকিৎসা জ্ঞান বিনিময়ে সহায়ক হবে এবং একই সঙ্গে রোগীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

শিক্ষার্থীর বাসায় মিলল গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন সচিব মিরানা মাহরুখ

সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি: প্রধানমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত