Ajker Patrika

মিষ্টির পরিবর্তে ফল হোক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

লিনা আক্তার
মিষ্টির পরিবর্তে ফল হোক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
ছবি: পেক্সেলস

শিশু এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ফল শুধু ভিটামিনই সরবরাহ করে না; অল্প বয়স থেকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে সাহায্য করে। শিক্ষার্থীদের কাছেও মিষ্টির পরিবর্তে ফল স্বাস্থ্যকর নাশতা হতে পারে। এটি সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকরভাবে খাওয়ার সঠিক উপায় জেনে রাখা জরুরি। অনেকে ফলের পুষ্টিগুণ তাদের পরিপাকতন্ত্র এবং রক্তে শর্করার বিপাক ক্রিয়ার জন্য বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

ফল ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আঁশের চমৎকার উৎস। তাই ফল খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফল সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে খাওয়া। ফল সব বয়সী মানুষের জন্য ভিটামিনের সমৃদ্ধ উৎস।

কখন ফল খাবেন

খাবার খাওয়ার আগে, নাকি পরে ফল খাওয়া দরকার—এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে অনেকে হয়ে পড়েন বিভ্রান্ত। বাস্তবে এমন কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, যখন খেলে ফলের সব উপকার বেশি পাওয়া যাবে। তবে হজম এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে ফল খাওয়ার আদর্শ সময় হলো মূল খাবারের ১-২ ঘণ্টা পর অথবা হালকা নাশতা হিসেবে।

প্রোটিন ও চর্বিযুক্ত ভারী খাবারের ঠিক পরই ফল খেলে, ফলের ফ্রুক্টোজের উপস্থিতির কারণে সহজে পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং বদহজম হতে পারে। যাদের পেটের সমস্যা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অস্বস্তি আরও বেশি প্রকট হয়। অনেকের খাওয়ার ঠিক পরে ফল খাওয়ার অভ্যাস আছে। তাদের ধারণা, এটি হজমে সাহায্য করে। কিন্তু এটি পুরোপুরি ঠিক নয়। ভারী খাবারের পর ফল অতিরিক্ত খাবার হিসেবে না দেখে, একে একটি স্বাস্থ্যকর জলখাবার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সঠিক সময়ে ফল খেলে শরীর পুষ্টি ভালোভাবে শোষণ করতে পারে এবং পেট ফাঁপা ও বদহজম কমে যায়।

শিশু-কিশোরদের জন্য মিষ্টি হিসেবে যেসব ফল বেছে নিতে পারেন, সেগুলো হলো কলা, আপেল, কমলা, কমলালেবু, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, পেঁপে, তরমুজ ইত্যাদি। এই ফলগুলো ভিটামিন, পানি ও আঁশে ভরপুর। এগুলো হজমে সহায়তা করতে, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করবে। অভিভাবকদের উচিত বিভিন্ন রঙের তাজা ও মৌসুমি ফলকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং শিশুদের রসের পরিবর্তে সেগুলো আস্ত খেতে উৎসাহিত করা।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

ফলের চিনি কি ক্ষতিকর নয়

‘ফলের চিনি ক্ষতিকর নয়’—এই ধারণা সঠিক নয়। ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হতে পারে। এতে বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগী কিংবা অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের কাঁঠাল, পাকা আম বা পাকা কলার মতো তীব্র মিষ্টি ফল খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত।

ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকে বলে এগুলো সুস্বাদু। কিন্তু এ ধরনের ফল খেতে হবে পরিমিত। পাকা আম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি ফল বেশির ভাগ মানুষ মিষ্টি স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য ভালোবাসে। তবে এই ফলগুলোতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই এগুলো একবারে বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এগুলো ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার বা স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত ফল নয়।

ফলের রস কি বেশি পুষ্টিকর

অনেকের ধারণা, ফলের রস ‘বেশি পুষ্টিকর’। এটি সহজে পান করা যায় এবং শরীরে দ্রুত শোষিত হয়। তবে রস করার সময় এর বেশির ভাগ আঁশ বাদ পড়ে যায় এবং চিনির পরিমাণ আরও ঘনীভূত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে তাজা ফল খেলে তার আঁশ সংরক্ষিত হয়, শর্করার শোষণ ধীর হয়ে যায়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং এটি হজমতন্ত্র ভালো রাখে।

ফলের রস কোনোভাবেই তাজা ফলের বিকল্প হতে পারে না। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ফলের রস পান করলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ওজন বেড়ে যাওয়া এবং রক্তে শর্করার সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

খুব রাতে ফল খাওয়া কি ভালো

অনেকের রাতে ফল খাওয়ার অভ্যাস আছে। তারা মনে করে, এটি হালকা নাশতা বলে ওজন বাড়বে না। তবে রাতে তীব্র মিষ্টিযুক্ত ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। কারণ, তখন শরীর সেই শক্তি খরচ করার জন্য ততটা সক্রিয় থাকে না।

এ ছাড়া কিছু লোকের পেট ফাঁপা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, ঘুমের সমস্যা এবং বুক জ্বালাপোড়া বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে রাতে ফল খেলে।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে হালকা এবং কম মিষ্টিযুক্ত ফল খাওয়া যেতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত