Ajker Patrika

আপনার গ্যাজেট ক্ষতি করছে যেভাবে

ফিচার ডেস্ক
আপনার গ্যাজেট ক্ষতি করছে যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

আমরা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। সে ক্ষেত্রে মনোযোগ থাকে মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, হাতের স্মার্টফোন কিংবা কবজির স্মার্টওয়াচ আপনার শরীরের ওপর কী ধরনের স্থায়ী প্রভাব ফেলছে? গবেষক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, টাইপ করা অথবা স্ক্রল করার কারণে আমাদের শরীরে কিছু দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য শারীরিক পরিবর্তন ঘটছে। এগুলোর মধ্যে ঘাড়ের ব্যথা, চোখের ক্ষতি, হাতের দুর্বলতা এবং ত্বকের অস্বস্তি অন্যতম। স্ক্রিন টাইম সীমিত করা, বসার ভঙ্গি অথবা পশ্চার ঠিক রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম, বাইরে সময় কাটানো এবং বাস্তব জীবনের সৃজনশীল কাজে হাতকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে আমরা খুব সহজে গ্যাজেটের এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের শরীর এবং ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে পারি।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

টেক নেক এবং মেরুদণ্ডের ক্ষতি

স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় আমরা সাধারণত মাথা ঝুঁকিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকি। এভাবে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখার কারণে আমাদের ঘাড়ে প্রায় ৬০ পাউন্ড অথবা ২৭ কেজি অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপ বজায় থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, পেশি ও জয়েন্টের ক্ষয় ঘটতে পারে; এমনকি ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে। এটি আমাদের শারীরিক গঠন বা অবয়বকেও স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ কিছু ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, ফোন কিংবা কম্পিউটারের স্ক্রিনটি চোখের উচ্চতায় এনে ব্যবহার করা। এ ক্ষেত্রে মুখ থেকে স্ক্রিন প্রায় এক হাত দূরে থাকবে। এ ছাড়া প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর অন্তত ২০ মিনিটের একটি স্ক্রিন ব্রেক নেওয়া উচিত।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্মার্টওয়াচ থেকে ত্বকের সমস্যা

যাঁরা সার্বক্ষণিক স্মার্টওয়াচ পরেন, তাঁদের ঘড়ির নিচে একটি অন্ধকার এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়, যা ইস্ট বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, ত্বকের অস্বস্তি অথবা একজিমার কারণ হতে পারে। এর ফলে ত্বকের সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গ্যাজেটে ব্যবহৃত নিকেল, রাবার, ল্যাটেক্স বা অ্যাক্রিলেটস নামক রাসায়নিকের প্রতি ত্বক সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। মাঝেমধ্যে স্মার্টওয়াচটি খুলে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে এবং সারা দিন ঘড়ি পরে থাকার অভ্যাস থাকলে ‘ব্যারিয়ার ক্রিম’ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দুর্বল হাত ও গ্রিপ স্ট্রেন্থ কমা

হাতের মুঠোর জোর বা গ্রিপ স্ট্রেন্থ বর্তমানে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে স্বীকৃত। এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তচাপের চেয়ে গ্রিপ স্ট্রেন্থের মাধ্যমে মানুষের অকালমৃত্যুর পূর্বাভাস বেশি নিখুঁতভাবে দেওয়া সম্ভব। জার্মানির মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব লাউসিটজের মেডিকেল সোসিওলজির অধ্যাপক জোহানেস বেলার জানান, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গ্রিপ স্ট্রেন্থ কমে যাওয়ার অর্থ হলো, তাদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। কম্পিউটারনির্ভর এবং বসে বসে কাজ করার লাইফস্টাইলের কারণে শারীরিক ফিটনেস কমছে, যার প্রভাব পড়ছে হাতের পেশিতেও। একটি টেনিস বলকে পুরো শক্তি দিয়ে চেপে ধরে ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড রাখতে পারার কথা। যদি তা না পারেন, তাহলে রিস্ট কার্ল ব্যায়াম বা নিয়মিত জিমে গিয়ে সামগ্রিক ফিটনেস উন্নত করতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হাত ও চোখের সমন্বয় এবং বুদ্ধিমত্তা

প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের স্ক্রিনে ক্লিক বা সোয়াইপ করার মতো সাধারণ মোটর স্কিল বাড়ালেও সামগ্রিক সূক্ষ্ম মোটর স্কিলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব রেগেন্সবুর্গের ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি ও এডুকেশনের অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান সুগেটের গবেষণা অনুযায়ী, শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে দুর্বল মোটর স্কিলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এটি আরও বেশি উদ্বেগজনক, কারণ মোটর স্কিলের সঙ্গে শিশুদের মানসিক, জ্ঞানীয় ও একাডেমিক বিকাশ জড়িত। তিনি সতর্ক করেন, এর ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সমাজের বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়ার এবং বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কারণ, হাতই হলো পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের মূল মাধ্যম। স্ক্রিন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না করে সচেতনভাবে নিজে রান্না করা, হাতের লেখা, কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো অথবা কাঠ ও চারুশিল্পের কাজ করার মতো বাস্তব জীবনের বিভিন্ন হাতের কাজ বাড়াতে হবে।

সূত্র: বিবিসি, ভ্যারাইটি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত