
‘মোদির হাতে মুসলমানরা নিরাপদ না। দেখুন কীভাবে এক মুসলিম মেয়েকে দলবল এসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে... তারা তাঁকে তাদের মতো করে ব্যবহার করে অবশেষে ছুড়ে ফেলে দেবে’— এমন দাবিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণের দৃশ্যসংবলিত ওই ফটোকার্ড শেয়ার করে প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করারও আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে।
‘দিগন্ত নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়। আলোচিত ওই দাবিতে এটি সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট ও সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) বেলা ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত পোস্টটিতে ১ হাজার ১০০টি রিঅ্যাকশন ও ১৯০টি কমেন্ট পড়েছে এবং ১ হাজার ৩০০ বার শেয়ার হয়েছে।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে কয়েকজন মিলে এক নারীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার দৃশ্য রয়েছে। ছবির নিচে লেখা—‘একজন মুসলিম মেয়েকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যাচ্ছে উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীরা।’ ফটোকার্ডটির ওপরে বাম পাশে ইনসেটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ও ডান পাশে ‘বলার মত ভাষা নেই’ লেখা রয়েছে। তবে ঘটনার সময় বা স্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
পরে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘নোয়াখালীর সেই নারীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর স্বামী’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির সাদৃশ্য রয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার। পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুক মামলার জেরে এক নারীকে তাঁর স্বামী ও সহযোগীরা মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ওই নারীর চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা মাইক্রোবাসটি ভাঙচুর করেন। এ সময় ওই নারীর স্বামীসহ তিনজনকে তাঁরা আটক করেন।

ওই নারীর বাবা প্রথম আলোকে জানান, এটি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা ছিল না; বরং তাঁর জামাতা যৌতুকের টাকার জন্য এর আগেও আদালত চত্বর থেকে মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করেছিলেন। তখন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে তাঁর মেয়েকে রক্ষা করা হয়। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) নিশ্চিত করেন ঘটনাটি পারিবারিক।
এ ছাড়া অনুসন্ধানে ‘Hinduism Worldwide’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ২০২৪ সালের ৯ আগস্টের একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির মিল রয়েছে।

সে সময় একই ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছিল—‘নোয়াখালীতে হিন্দু মেয়েকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে মুসলিম ছেলেরা।’ ওই সময় ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট ওয়াচ অনুসন্ধান করে বিষয়টিকে ‘পারিবারিক বিরোধ’ হিসেবে নিশ্চিত করেছিল।
অর্থাৎ, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের নোয়াখালীতে পারিবারিক ও যৌতুক-সংক্রান্ত ঘটনার ছবিকে ২০২৬ সালে এসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক ঘটনা ও ‘মুসলিম মেয়ে অপহরণ’ দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
সিদ্ধান্ত
নোয়াখালীতে ২০২৪ সালে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক নারীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার ছবিকে ভারতে ‘মুসলিম মেয়ে অপহরণ’ দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। একই ঘটনাকে এর আগে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলেও প্রচার করা হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘এ কেমন নির্মমতা! এই ঘটনা নাকি রাজশাহীতে ঘটেছে। ছেলেটির অপরাধ সে ছাত্রলীগ করতো।’ ভিডিওটি নিয়ে নেটিজনদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সমন্বয়ক সিনথিয়া মেহজাবিন মদ্যপ অবস্থায় রাস্তায় মাতলামি করছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের বেলায় এক নারী এক যুবকের ওপর চড়াও হয়েছেন এবং তাঁকে মারধর করছেন।
১ দিন আগেশেখ হাসিনা ১০ মে ভারতীয় মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন—দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে ‘কলকাতার অবস্থা ভালো নয়’ এবং ‘নরেন্দ্র মোদির লোকেরা মানুষের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দিচ্ছে’ দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে একদল বিক্ষুব্ধ জনতাকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তান্ডব চালাতে...
২ দিন আগে