
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে ‘কলকাতার অবস্থা ভালো নয়’ এবং ‘নরেন্দ্র মোদির লোকেরা মানুষের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দিচ্ছে’ দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে একদল বিক্ষুব্ধ জনতাকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তান্ডব চালাতে এবং ভবন ও মোটরসাইকেলে আগুন দিতে দেখা যায়।
এই দাবিতে ভাইরাল কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে ।
‘Bozlur Rahman Hemal’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৬ মে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। আজ ১১ মে দুপুর ১টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে ১ হাজার ২০০-এর বেশি শেয়ার ও ১৩১টি কমেন্ট রয়েছে, যেখানে অধিকাংশ ব্যবহারকারীই একে কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতি বলে মনে করছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি হাতে এক জায়গায় জড়ো করে রাখা কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করছে, বাকিরা তাতে সমর্থন দিচ্ছে। এ সময় অনেকে আবার ফোন হাতে ভিডিও করছে। ভিডিওটির কিছু দৃশ্যে পাশের ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এ সময় একজনের গায়ে নেপালের পতাকাও দেখা যায়।
ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে কি-ওয়ার্ড ও রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় গণমাধ্যম জাগো নিউজ-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘নেপালে জেন জি-দের অভিযোগ আমাদের আন্দোলন হাইজ্যাক হয়ে গেছে’ শিরোনামের ওই ভিডিওর একাধিক দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির মিল রয়েছে।

এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় নেপালের সুপ্রিম কোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক নথিপত্র ও মামলার রেকর্ড প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় বলে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা আদালত ভবনে আগুন ধরিয়ে দিলে বহু পুরোনো মামলার ফাইল, প্রশাসনিক নথি ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আদালতের কর্মকর্তারা পরে কিছু নথি উদ্ধার করার চেষ্টা চালান।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে গুগল ম্যাপের সহায়তা নেওয়া হয়। গুগল ম্যাপে নেপালের কাঠমান্ডুস্থ সুপ্রিম কোর্ট এলাকার স্ট্রিট ভিউ এবং ছবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ভবন, গাছ, সাইনবোর্ডসহ পারিপার্শ্বিক দৃশ্যের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ভিডিওটির অবস্থান নিশ্চিতভাবেই নেপালে, কলকাতায় নয়।

সিদ্ধান্ত
কলকাতায় বিজেপি সমর্থকদের তাণ্ডব দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। এটি গত বছর নেপালের কাঠমান্ডুতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ছাত্র বিক্ষোভের সময়কার ভিডিও। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের পর কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও আলোচিত ভিডিওটি নেপালে ছাত্র বিক্ষোভের সময়কার।

প্রচারিত ভিডিওতে নীল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ঠেন (কাছ থেকে) না শুনে আর এমপির ঠেন না শুনে যেন কোনো নিউজ হয় না কিন্তু। ঠিক আছে?’ এ সময় অন্য একজনকে সায় দিয়ে ‘আচ্ছা’ বলতে শোনা যায়।
৫ মিনিট আগে
নাটোরে যুবলীগ কর্মীকে না পেয়ে মায়ের কোল থেকে শিশুসন্তানকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দিয়ে হত্যার চেষ্টা—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে ফেনীর জনগণ নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
২১ ঘণ্টা আগে
‘আহা, বাংলাদেশ! যে দেশে কোনো আইন নেই, নারীর নিরাপত্তা নেই’—এমন ক্যাপশনে এক নারীকে বিবস্ত্র করে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে ফুল দিতে গেলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে বিবস্ত্র করে অমানবিক...
৩ দিন আগে