Ajker Patrika

শিল্পকলায় নাট্যম রেপার্টরির ‘দমের মাদার নাট্যোৎসব ৮০-তে যাত্রা’

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা
শিল্পকলায় নাট্যম রেপার্টরির ‘দমের মাদার নাট্যোৎসব ৮০-তে যাত্রা’
‘দমের মাদার’ নাটকের দৃশ্য। ছবি: নাট্যমের সৌজন্যে

নাট্যম রেপার্টরির প্রথম প্রযোজনা ‘দমের মাদার’। ২০১০ সালে মঞ্চে আসে নাটকটি। দেশের বাইরেও নাটকটির প্রদর্শনী করেছে নাট্যম। ১৬ বছরের এই যাত্রায় দমের মাদার নাটকের ৮০তম প্রদর্শনীর দ্বারপ্রান্তে নাট্যদলটি। এ উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে দলটি আয়োজন করেছে ‘দমের মাদার নাট্যোৎসব ৮০-তে যাত্রা’।

৬ থেকে ৮ মে টানা তিন দিন শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হবে দমের মাদার নাটকের পাঁচটি প্রদর্শনী। ৬ মে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির ৭৬তম প্রদর্শনী, ৭ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ৭৭ ও ৭৮তম প্রদর্শনী এবং শেষ দিন ৮ মে বিকেল ৫টা ৩০ এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে নাটকটির ৭৯ ও ৮০তম প্রদর্শনী।

মাদারপীরের এক ভক্ত সম্প্রদায়কে ঘিরে নাটকের গল্প। বংশপরম্পরায় সাধক জরিনা এখন মাদারের ভক্ত ও খাদেম। জরিনার নিজেরও অসংখ্য ভক্ত রয়েছে, যারা বিপদে-আপদে তার শরণাপন্ন হয়। যুগ যুগ ধরে জরিনার পূর্বপুরুষ মাদার বন্দনা করে মানুষের মধ্যে অহিংসার বাণী পৌঁছে দিয়েছে। হঠাৎ জরিনার এই ভক্তিকাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এলাকার চৌধুরী পরিবারের পক্ষাঘাতগ্রস্ত প্রবীণ সদস্য।

দমের মাদার রচনা করেছেন সাধনা আহমেদ, নির্দেশনা দিয়েছেন আইরিন পারভীন লোপা। অভিনয়ে শিশির রহমান, পারভীন পারু, শামীমা আক্তার মুক্তা, শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, ফজলে রাব্বি সুকর্ণ, জান্নাতুল ফেরদৌস, তারক নাথ দাস, তাহমিনা খাতুন, অমিতাভ রাজীব, ইভানা মেঘলা, মনোহর চন্দ্র দাশ, শাকিল আহমেদ, মো. শরিফুল ইসলাম মামুন প্রমুখ।

নির্দেশক আইরিন পারভীন লোপা বলেন, ‘২০১০ সালে আমরা কয়েকজন সমমনা নাট্যকর্মী নাট্যম রেপার্টরি প্রতিষ্ঠার পর ভাবলাম বাংলাদেশের লোকজ কোনো আঙ্গিককে নাগরিক মানুষদের সামনে উপস্থাপন করা যায়। সেই পরিকল্পনা থেকে তৈরি হলো দমের মাদার। মাদারপীরের এই আখ্যান মূলত মিথ। গত ১৬ বছরে দমের মাদার নিয়ে ১৬টি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে অংশ নিয়েছি। অবশেষে নাটকটির ৮০তম প্রদর্শনী সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।’

রেপার্টরি নাট্যচর্চা প্রসঙ্গে লোপা বলেন, ‘নাট্যম রেপার্টরি একটি পেশাদার নাট্যদল। আমাদের নির্ভর করতে হয় অনুদান বা সহযোগিতার ওপর। সত্যি বলতে, পেশাদার নাট্যচর্চা করা খুব দুরূহ। এবারও যে খুব আর্থিক সহায়তা পেয়েছি, তা নয়। তাই সব দিক বিবেচনায় একটি রেপার্টরি দল কোনো নাটকের ৮০তম প্রদর্শন করতে যাচ্ছে—এটা অনেক বড় পাওয়া। আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে রেপার্টরি চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটা পরম পাওয়া। আমরা স্বপ্ন দেখি নাট্যকর্মীরা একসময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাবেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে। ধীরে হলেও কাজটি এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকাতেই এখন অনেক দল রেপার্টরি আঙ্গিকে চলছে। যেটা সত্যি আশাব্যঞ্জক।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত