Ajker Patrika

স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে ঈশা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ‘শাটডাউন’, আইনি নোটিশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে ঈশা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ‘শাটডাউন’, আইনি নোটিশ
স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে কিশোরগঞ্জের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শাটডাউন ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে কিশোরগঞ্জের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শাটডাউন ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে নানা অনিয়ম ও সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলেছে, গত রোববার থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ তিন দিনের সময় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। জেলা শহরের পূর্ব পাশে গাছবাজার এলাকায় কেনা জমিতে অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসায় আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রধান ফটকে অবস্থান নেন।

​এদিকে, স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নসহ একাধিক দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান ৫০ শিক্ষার্থী। তাঁদের পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও আইনজীবী তাশফিক ইসলাম রাহিন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ২ বছরের মধ্যে নিজস্ব জমিতে স্থায়ী স্থাপনা করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে ১৪ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস করতে পারেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তালিকায় ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তলানিতে রয়েছে। তার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনেও। প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাবর্তন হয়নি। বিভিন্ন বিভাগে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের তীব্র সংকট এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের স্থবিরতা রয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদে চাকরি দেওয়া এবং ট্রাস্টের তহবিল ভেঙে অনৈতিকভাবে অর্থ উত্তোলনেরও অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক শিক্ষার্থী ও আইনজীবী খন্দকার শাফায়েত উল্লাহ আশিক বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। আশা করি নোটিশে উল্লেখিত বিষয়গুলো আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হবো। আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং ন্যায্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর আর এসব অবহেলা অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না।’

বিবিএ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ইফতি বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাস আমাদের ন্যায্য দাবি। অথোরিটি অতি দ্রুত এ দাবি পূরণ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আমরা সাবেক শিক্ষার্থীরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার চৌধুরী খায়রুল হাসান বলেন, ‘আমি এখন ক্যাম্পাসের বাইরে আছি। শাটডাউনের বিষয়ে কিছু জানি না। আমার দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত