Ajker Patrika

যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীরা
২০২২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক এনকাইনিয়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে এখন শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন। একই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি এখনও কৃষ্ণাঙ্গ, এশীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, যা নতুন করে বৈষম্যবিষয়ক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাজ্যের ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তরাজ্যে আবাসিক শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীরা মোট শিক্ষার্থীর ৫০ শতাংশের কম। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ১৩টি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০ টিতে এখনও এমন বৃত্তি, বার্সারি ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে, যেগুলো মূলত কৃষ্ণাঙ্গ, এশীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগত পটভূমির শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।

এর মধ্যে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় বছরে কয়েক হাজার থেকে প্রায় ২৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও বহন করা হয়।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের আদমশুমারির জনসংখ্যার অনুপাতের সঙ্গে তুলনা করলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ১৪৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০ টিতে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ৬৫টি।

রাসেল গ্রুপভুক্ত ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫ টিতে শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব কমে গেছে। এক দশক আগে এ সংখ্যা ছিল ১০টি। ইউনিভার্সিটি অব বাকিংহামের রাষ্ট্রবিভাগের অধ্যাপক এরিক কাউফম্যান এসব বৃত্তিকে ‘জাতিগত বৈষম্য’ আখ্যা দিয়ে এগুলো বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের অনুপাত কমে যাওয়ায় এ ধরনের কর্মসূচি বজায় রাখার যৌক্তিকতা আরও দুর্বল হয়েছে।

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে দলের শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র সুয়েলা ব্র্যাভারম্যান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত মানুষের গায়ের রঙ নয়, বরং তাঁদের মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা এবং এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ করা।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন দ্য টেলিগ্রাফ সম্প্রতি দাবি করেছে, অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বৃত্তি কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীর আর্থসামাজিক অবস্থার চেয়ে জাতিগত পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সমতা আইন–২০১০ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো গোষ্ঠীর বঞ্চনা বা কম প্রতিনিধিত্ব দূর করতে ‘পজিটিভ অ্যাকশন’ বা ইতিবাচক পদক্ষেপের সুযোগ দেয়। এই আইনের আওতায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ বৈচিত্র্য কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে, ব্রিটেনে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের ধারণার সমালোচক সংগঠন ডোন্ট ডিভাইড আসের পরিচালক আলকা সেহগাল কথবার্ট বলেছেন, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত এ ধরনের বৃত্তি বিভাজন সৃষ্টি করে এবং ভুক্তভোগিতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে।

তবে সমালোচনার জবাবে গোল্ডস্মিথস, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য সবার জন্য শিল্প ও সৃজনশীল শিক্ষায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক পটভূমির পরিবর্তে মেধা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির বৈচিত্র্যবিষয়ক বৃত্তির উদ্দেশ্য হলো কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের কম প্রতিনিধিত্বের সমস্যা মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সাধারণ বার্সারি কর্মসূচি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে উদার সহায়তা কর্মসূচিগুলোর একটি বলেও দাবি করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত