Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আট দিন পর একজন জীবিত উদ্ধার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভেনেজুয়েলায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আট দিন পর একজন জীবিত উদ্ধার
সাতটি দেশের পতাকা কাঁধে নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা যখন গিলকে স্ট্রেচারে করে বের করে আনেন, তখন উপস্থিত শত শত মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন। ছবি: এএফপি

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৪০ টন ওজনের রড-কংক্রিটের স্তূপের নিচে টানা ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এক শ্বাসরুদ্ধকর ও জটিল আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান শেষে আজ বৃহস্পতিবার ওই ব্যক্তিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধার হওয়া ৪৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় যখন জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে, তখন গিল উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মার-এর একটি সাত তলা ভবনে (পার্কিং) নৈশকালীন নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে পুরো ভবনটি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়লেও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের বেসমেন্টে গিলের ছোট কংক্রিটের কেবিনটি সোজা দাঁড়িয়ে থাকে।

চারপাশের শত শত টন ধ্বংসস্তূপের মাঝে এই কেবিনটিই গিলের চারপাশে একটি ঢাল বা সুরক্ষাকবচ তৈরি করে এবং তাঁর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বাতাস বা এয়ার পকেট নিশ্চিত করে। গত শনি ও রোববার কোস্টারিকান রেড ক্রসের একটি বিশেষ দল প্রথম ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের সন্ধান পায় এবং গিলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়। তবে আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ভবনগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় উদ্ধার অভিযানটি হয়ে ওঠে চরম বিপজ্জনক।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া চিলির এক ফায়ার ফাইটার এটিকে তাঁর জীবনের ‘সবচেয়ে জটিল ও কারিগরিভাবে কঠিন’ উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গিলকে বাঁচাতে ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অগ্নিনির্বাপক দলের শত শত দক্ষ উদ্ধারকর্মী দিনরাত এক করে কাজ করেছেন। গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য তৈরি করা টানেল কয়েকবার ধসে পড়লেও উদ্ধারকারীরা দমে যাননি।

গত রাতে একটি ছোট ক্যামেরার সাহায্যে উদ্ধারকারীরা অবশেষে গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, ধুলাবালি থেকে বাঁচতে গিল একটি ফেস মাস্ক পরে আছেন (উদ্ধারকারীরা আগেই একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে তাঁর কাছে এটি পাঠিয়েছিলেন)।

চিলির এক উদ্ধারকর্মী তাঁকে ক্যামেরার দিকে তাকাতে এবং চোখের সুরক্ষার জন্য বিশেষ চশমা পরে নিতে অনুরোধ করেন। ম্যাক্সিকান ও কোস্টারিকান রেড ক্রসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত বড় বিপর্যয়ের পরও গিল সম্পূর্ণ স্থিতিশীল এবং দারুণ প্রফুল্ল মেজাজে ছিলেন।

ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থাতেই পাইপের মাধ্যমে তাঁকে পানি ও স্যালাইন দেওয়া হয় এবং তিনি উদ্ধারকারীদের কাছে তাঁর পছন্দের ফ্লেভারের এনার্জি ড্রিংক খেতে চান, যা উদ্ধারকর্মীরা সানন্দে সরবরাহ করেন।

কোস্টারিকান রেড ক্রসের কর্মী রিকার্ডো আরিয়াস স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গিল অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। তাঁর হাতের একটি নখও আঘাত পায়নি।

গিলের এই প্রাণবন্ততা উদ্ধারকর্মীদেরও সুড়ঙ্গ খননে বাড়তি প্রেরণা জুগিয়েছে। গিলের স্ত্রী গুসবিমার গঞ্জালেস তাঁদের ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও বুকফাটা বেদনায় দিন কাটাচ্ছিলেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘মিরাকল’ বলে অভিহিত করেছেন।

সাতটি দেশের পতাকা কাঁধে নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা যখন গিলকে স্ট্রেচারে করে বের করে আনেন, তখন উপস্থিত শত শত মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুনের এই ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এমন এক মহাসংকটের মাঝে হার্নান গিলের এই বেঁচে ফেরা পুরো ভেনেজুয়েলাবাসীকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত