Ajker Patrika

‘তারা রামের নামে ভোট চাইবে, তারপর খোদ রামকেই লুট করবে’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
‘তারা রামের নামে ভোট চাইবে, তারপর খোদ রামকেই লুট করবে’
অযোধ্যার রামমন্দির। ছবি: পিটিআই

অযোধ্যার রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আর এই মেগা স্ক্যান্ডালকে হাতিয়ার করে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে এক জোট হয়েছে বিরোধী দলগুলো।

আজ বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবাল বিজেপি এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি ভগবান রামকে ‘লুট’ করার অভিযোগ এনেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এই লুটের ঘটনাকে হিন্দু ধর্মের প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ আখ্যা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে রাজ্যসভার স্বতন্ত্র সদস্য কপিল সিবাল কড়া ভাষায় বিজেপি ও সংঘ পরিবারকে আক্রমণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), বিজেপি, বজরং দল—এরা রামের নামে ভোট নেবে, তারপর খোদ রামকেই লুট করবে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আরও বলেন, ‘আসল হিন্দুরা কি এসব করে? এরা তো আসলে ভুয়ো বা ফোর্জড হিন্দু।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন এই চুরির ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এরপরই বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। পুলিশ এ পর্যন্ত আটজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের মধ্যে ছয়জনের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি নগদ অর্থসহ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিজেপির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

তবে রাজ্য সরকারের এই তদন্তকে স্রেফ ‘চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশল’ বা আইওয়াশ বলে মনে করছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল লিখেছেন, শত কোটি রুপির এই বিশাল আর্থিক জালিয়াতি ও চুরির ঘটনা কোটি কোটি ভারতীয় ও সনাতন ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাস এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্মম আঘাত। কারণ সাধারণ মানুষ তাঁদের সারা জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় থেকে ভগবান রামের প্রতি গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এই দান করেছিলেন, যা আজ নির্লজ্জভাবে লুট করা হয়েছে।

পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) প্রধান বেণুগোপাল তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেন, চলমান প্রাথমিক তদন্তে এটি স্পষ্ট যে—শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের নাকের ডগায় একটি অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়া এত বড় চুরি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, একদিকে ট্রাস্টের গণনা কর্মীরা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, তাদের অপরাধের প্রমাণ ঢাকতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গত ৭ থেকে ৮ মাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, এই লুটপাট কেবল দু-চারজন সাধারণ কর্মচারীর কাজ নয়। ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদ ও যোগসাজশেই এই কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২০-২১ সালের দিকে ট্রাস্টের তৎকালীন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (সিএও) এই পদ্ধতিগত জালিয়াতির বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি সোনা-রুপার গয়না গায়েব হওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কথা শোনার পরিবর্তে তাঁকে চাকরি থেকেই বরখাস্ত করা হয়।

বেণুগোপাল মোদিকে মনে করিয়ে দেন, ২০২০ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ট্রাস্টটি কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গঠিত হয়েছিল। তাই এর পবিত্রতা রক্ষা করার নৈতিক দায়িত্ব সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খোদ নরেন্দ্র মোদির। রাজ্য সরকারের অধীনস্থ এসআইটি দিয়ে এই প্রভাবশালী রাঘববোয়ালদের ধরা সম্ভব নয়। মূলত ছোট পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তার করে মূল হোতাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত