Ajker Patrika

হেলমেট-মাস্ক পরা ২ জন যেভাবে গুলি করে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশকে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ২১: ১৭
হেলমেট-মাস্ক পরা ২ জন যেভাবে গুলি করে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশকে
ঘটনাস্থল পুলিশের ক্রাইমসিন টেপ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর রামপুরায় নিজ বাসার সামনে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন পুলিশের তালিকাভুক্ত এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ (৫০)। যিনি ‘কাইল্লা পলাশ’ নামে পরিচিত। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। দুটি গুলিই তাঁর মাথায় লাগে।

অস্ত্রোপচারের পর পলাশকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে অবস্থানরত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর অনুসারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম রামপুরার টিভি সেন্টারের বিপরীতে খান টাওয়ারের সপ্তম তলায় বাস করতেন পলাশ। পাশের মক্কি জামে মসজিদে আয়োজিত মিলাদে অংশ নিয়ে আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাসার সামনে পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। দুটি গুলিই তাঁর মাথায় লাগে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পরপরই দুই হামলাকারী আগে থেকে প্রস্তুত রাখা একটি মোটরসাইকেলে উঠে হাতিরঝিলের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পলাশের সঙ্গে থাকা স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধাওয়া দিলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলাকারীরা আরও দুটি গুলি ছোড়ে। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পলাশের বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম মিয়া বলেন, দুই যুবক খুব কাছ থেকে পলাশের মাথায় গুলি করেন। এরপর কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলে উঠে তাঁরা পালিয়ে যান। ধাওয়া দেওয়া হলে তাঁরা আবারও গুলি ছুড়ে দ্রুত সরে পড়েন। প্রায় এক মাস আগে পলাশ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুমার নামাজ শেষে বাসার সামনে রয়েল মিষ্টির দোকানের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা পলাশকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাঁর মাথায় দুটি গুলি লেগেছে। কারা এবং কী কারণে হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পলাশকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট ট্রেইনি চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। আরেকটি গুলি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। গুলির আঘাতে তাঁর মস্তিষ্কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এদিকে হামলার ঘটনার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), থানা-পুলিশ, সিআইডিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থানরত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে পলাশের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি কারামুক্তির পর পলাশ এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো গ্রুপ হামলার পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ।

যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় দণ্ডিত ছিলেন ইয়াসিন খান পলাশ। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় মিজানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় বিচারিক আদালত পলাশকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরে উচ্চ আদালত তাঁর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত