Ajker Patrika

লাইসেন্স বাতিল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের: আইনজীবী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১১: ২৩
লাইসেন্স বাতিল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের: আইনজীবী
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। ছবি: সংগৃহীত

ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি দাবি করেছেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেনি কর্তৃপক্ষ। বাতিল করেছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান চিঠি দিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী ডা. সেখ মহিউদ্দীনকে জানিয়েছেন।

তবে আজ শুক্রবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির ফেসবুকে কিছু নথিপত্রের ছবি শেয়ার করে বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেনি সরকারি কর্তৃপক্ষ। বাতিল করেছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স।

তিনি পোস্টে লেখেন, ‘আদ-দীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেনি। বাতিল করেছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। এটা কি অবহেলা না কি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। যদি অবহেলা হয়ে থাকে তাহলে কেমন ধরনের অবহেলা? আপনারাই বিবেচনা করবেন।’

শিশির মনির লেখেন, ‘দুটো লাইসেন্স আছে। একটি আদ-দীন হাসপাতালের জন্য। লাইসেন্সে লেখা আছে “to set up and run a hospital/clinic” [কপি নিম্নে সংযুক্ত করা হল]। এই লাইসেন্সের নম্বর HSM 4310058. অপরপক্ষে আরেকটি লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ ইস্যু করেছেন। সেখানে লিখা আছে “to set up and run a pathology Center”. এই লাইসেন্সের নম্বর HSM 4310059 [কপি নিম্নে সংযুক্ত করা হল]। এখন আসেন কারণ দর্শানো নোটিশ কি বলে? কর্তৃপক্ষ ৪ জুন ২০২৬ তারিখ কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে [কপি নিম্নে সংযুক্ত করা হল]। উক্ত নোটিশে লাইসেন্স নম্বর HSM 4310059 উল্লেখ করেন এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলেন। জবার দাখিলের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় চাওয়া হয়। তারপর জবাব দায়ের করা হয়। অতঃপর গতকাল লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এবং ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার আইনি সুযোগ দেয়া হয় [সিদ্ধান্ত নিম্নে সংযুক্ত করা হল]। ’

পাঠকদের উদ্দেশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই আইনজীবী লেখেন, ‘এখন আপনারাই বিচার করেন কি হল? কোনটা বাতিল হল? hospital/Clinic নাকি pathology Center? কর্তৃপক্ষই ভাল বলতে পারবেন। অবহেলা না কি ইচ্ছাকৃত? অবহেলা [Negligence] হলে কেমন ধরনের অবহেলা? বিচারের ভার আপনাদের উপর রইল।’

উল্লেখ্য, ঈদের আগের দিন গত ২৭ মে ভোররাতে মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। তারা সবাই এক থেকে চার দিন বয়সী ছিল। এ ঘটনায় গঠিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা’ প্রমাণ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলে, কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক হয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান চিঠি দিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী ডা. সেখ মহিউদ্দীনকে জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত