Ajker Patrika

বাঁধে নয়, বুদ্ধিতে বন্যা মোকাবিলার তাগিদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৯: ১৩
বাঁধে নয়, বুদ্ধিতে বন্যা মোকাবিলার তাগিদ
জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত হয় ‘সাম্প্রতিক বন্যার তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন।ছবি: আজকের পত্রিকা

বন্যাকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল দখল, পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধা—এসব কারণেই দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। তাই ত্রাণনির্ভর ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক, পরিবেশসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ’ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক বন্যার তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদস্যসচিব শরীফ জামিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের ৭ থেকে ১২ জুলাই টানা অতি ভারী বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আন্তসীমান্ত নদ-নদীর অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে অন্তত ১৭টি জেলা বন্যা ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কুড়িগ্রাম। পাশাপাশি হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি, মাছের ঘের, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শরীফ জামিল বলেন, এবারের বন্যার জন্য শুধু অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢল দায়ী নয়। নদী-খাল-জলাশয় দখল, নাব্যতা হ্রাস, অপরিকল্পিত সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় সংঘটিত বন্যা ও জলাবদ্ধতার বড় অংশের জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ দায়ী। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রকৃতির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা, আধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনের সুপারিশ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে এম. এস. সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যার ভয়াবহতা কেবল প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট কারণেও বেড়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধরা এ পর্যালোচনা তৈরি করেছে। তিনি বন্যা ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

হাওর রক্ষায় আমরা-এর আহ্বায়ক জাফর সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশে বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তুতি, দ্রুত সহায়তা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গবেষক, পরিবেশকর্মী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি নদী অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার, পরিবেশসম্মত উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত