Ajker Patrika

শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গোতে আগুন

আগুন লাগা কনটেইনারের পণ্য নিলামে উঠত রোববার, ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

  • নিলামের আগেই ডিএইচএলের কনটেইনারে অগ্নিকাণ্ড
  • কনটেইনারে ছিল কাপড়ের রোল, কাগজজাত পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য
  • সিসিটিভির বাইরে আগুনের সূত্রপাত
  • মিলছে না শর্টসার্কিটের আলামত
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ১৯: ১৫
আগুন লাগা কনটেইনারের পণ্য নিলামে উঠত রোববার, ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় ডিএইচএলের একটি কন্টেইনারে আগুন লাগে। ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যে কনটেইনারে আগুন লাগে, সেখানে থাকা পণ্যগুলো রোববার (৭ জুন) নিলামে ওঠার কথা ছিল। নিলামের আগেই আগুন লাগার ঘটনায় নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর আজ শনিবার সকাল থেকে অন্তত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাঁদের মধ্যে ডিএইচএলের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেট-সংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় ডিএইচএলের একটি কনটেইনারে আগুন লাগে। ঘটনাস্থলটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে ছিল, যা তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাঁদের ভাষ্য, আগুন লাগার স্থানের সামনের অংশে একটি বিদ্যুতের খুঁটি ছিল এবং নিচে কিছু তার পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে শর্টসার্কিট হলে সাধারণত স্পার্কিং হওয়ার কথা, এমনকি আশপাশের বিদ্যুৎ-সংযোগেও প্রভাব পড়ার কথা। কিন্তু সে রকম কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আলোও নিভে যায়নি। ফলে আগুনের কারণ নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

তদন্তকারীরা আরও জানান, ঘটনাস্থলের অদূরে কয়েকটি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অথচ ওই এলাকায় ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সিগারেট থেকে আগুন লাগলে সাধারণত ধীরে ধীরে ধোঁয়া সৃষ্টি হয়ে পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে; কিন্তু এই ঘটনায় হঠাৎ দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠেছে বলে ফুটেজে দেখা গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে ডিএইচএলের একজন কর্মী অবস্থান করছিলেন। তিনি সেখানে মশারি টানিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন লাগার পরও দেড় থেকে দুই মিনিট তিনি শান্তভাবে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে ফোন করে বিষয়টি অন্যদের জানান। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাটি স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, ‘পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত নাশকতা বা মানবসৃষ্ট ঘটনার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিএইচএলের ওই কনটেইনারে কাপড়ের রোল, কাগজজাত পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিকের সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য মজুত ছিল। এসব পণ্য রোববার নিলামে তোলার কথা ছিল। কিন্তু নিলামের আগেই আগুন লাগার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে সন্দেহ আরও বেড়েছে।

এদিকে পরপর দুবার ডিএইচএল-সংশ্লিষ্ট স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের ১৮ অক্টোবরও শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে। ওই ঘটনায় হাজার কোটি টাকার পণ্য পুড়ে যায় এবং দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনার পরও কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

অন্যদিকে ডিএইচএলের কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত