Ajker Patrika

দেশে ফিরলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ১৫: ৩৪
দেশে ফিরলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু
অভিজিত দিপকে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ভাইরাল ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপকে আজ শনিবার রাজধানী নয়া দিল্লিতে পৌঁছেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে এসেছেন। এর মাধ্যমে দেশটির সবচেয়ে বড় অনলাইন যুব আন্দোলন প্রথমবারের মতো সরাসরি রাস্তায় নেমে এল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ৩০ বছর বয়সী অভিজিত দিপকে গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতে ফেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এ আশঙ্কায় তার পরিবার ও বন্ধুরা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

আজ শনিবার মধ্য দিল্লির জন্তর মন্তর এলাকার কাছে কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য জড়ো হয়। তারা আশপাশের কিছু সড়কে ব্যারিকেড দেয়, যখন বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকে। তাদের দাবি ছিল শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

মোদি সরকার দেশে এই আন্দোলনের এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি সরকারের এই সিদ্ধান্ত দিল্লি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু অভিযোগ করেছেন, এই গোষ্ঠী ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান এবং ‘ভারতবিরোধী চক্রের’ কাছ থেকে অনুসারী সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

মে মাসের মাঝামাঝি যাত্রা শুরু করার পর থেকে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংগ্রহ করেছে এই সংগঠন। এটিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অনলাইন প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাপক যুব বেকারত্ব এবং বারবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস—যা লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করছে—এই আন্দোলনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে মোদির দলের জয়ের পরও এই গোষ্ঠীর জনপ্রিয়তা তার ভাবমূর্তিতে আঘাত করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধজনিত গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষও বাড়ছে।

পুলিশ আজ শনিবারের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে মানুষকে নির্দেশ দিতে লাউডস্পিকার ব্যবহার করে। আন্দোলনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এটি দেশের যুবসমাজের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। ” তিনি আরও বলেন, দিপকে “ভারতের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ ও বড় দিনের জন্য প্রস্তুত।’

ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। তাদের জন্য কৃষি-বহির্ভূত খাতে চাকরি সৃষ্টি করা এখনো দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও। অর্থনীতিবিদদের মতে, এপ্রিল মাসে শহুরে যুব বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ। বহু শিক্ষিত তরুণও তাদের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন স্বল্প বেতনের বা অনিরাপদ চাকরিতে আটকে আছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত