Ajker Patrika

আলিয়া মাদ্রাসায় শিবিরের প্রবেশে পুলিশের বাধা, ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২২: ১২
আলিয়া মাদ্রাসায় শিবিরের প্রবেশে পুলিশের বাধা, ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার
আলিয়া মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে চাইলে বকশীবাজার মোড়ে শিবিরের নেতা-কর্মী আটকে দেয় পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হল আল্লামা কাশগরীতে (রহ.) প্রবেশের চেষ্টা করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। আজ শনিবার দুপুরে হলের দিকে যেতে চাইলে বকশীবাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর শিবিরের নেতা-কর্মীরা সরে গেলে পুলিশও ব্যারিকেড তুলে নেয়।

৪ আগস্ট ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকে হলটির নিয়ন্ত্রণ ছাত্রদলের হাতে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর কয়েক দফা হলে প্রবেশের চেষ্টা করেও পুলিশের বাধায় তাঁরা ঢুকতে পারেননি বলে অভিযোগ শিবিরের। এর আগে গত বুধবারও শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা বকশীবাজার মোড়ে অবস্থান নেন। পরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করে তাঁরা সরে যান।

সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলীম অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হলে অবস্থান করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদের হলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মাদ্রাসা প্রশাসনও তাঁদের সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে পুলিশের দাবি, বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। ডিএমপির লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুল কবির বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে, তাঁরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে হলে যেতে পারবেন। বৈধ শিক্ষার্থীরাও এককভাবে হলে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে দলবল নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এতে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৪ আগস্ট একটি কক্ষে তালা দেওয়া নিয়ে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। এ সময় কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

শিবিরের দাবি, তাঁদের নেতা-কর্মীদের কক্ষ ভাঙচুর করে ল্যাপটপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। ছাত্রদল কর্মী সাদ চৌধুরী দাবি করেন, বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ জন ছাত্রদল কর্মী হলে অবস্থান করছেন। শিবির হলে উঠতে চাইলে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই উঠতে হবে বলে জানান তিনি।

ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার

এদিকে আজ শনিবার বিকেলে মাদ্রাসার হলসংলগ্ন সড়ক থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি পরীক্ষা করে নিষ্ক্রিয় করে।

পুলিশ জানিয়েছে, সকালে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকলেও বিকেলে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত