Ajker Patrika

চট্টগ্রামে চা বোর্ডের জমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে আরএসআরএমের কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৫৬
চট্টগ্রামে চা বোর্ডের জমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে আরএসআরএমের কারখানা

চট্টগ্রামে ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরএসআরএম গ্রুপের একটি কারখানা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ না করা, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমি দখলে রাখা এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ শিল্প এলাকায় অবস্থিত মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেড নামের কারখানাটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উচ্ছেদ করা হবে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদ শিল্প এলাকায় চা বোর্ডের মালিকানাধীন ৬৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখলে রাখা হয়। এই পরিস্থিতিতে আগামীকাল জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্যমতে, কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুছাইন মুহাম্মদ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চা বোর্ডের উপপরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ মদহুল কবীর চৌধুরী জানান, ২০০৮ সালে মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেড চা বোর্ডের কাছ থেকে ৬৫ শতক খালি জমি ভাড়ায় নেয়। সে সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ভাড়ানামা চুক্তি হয়। পরে ২০১৮ সালে আরও চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমিটি খালি করে দেওয়ার কথা ছিল। সেখানে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ও আবাসন প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ জায়গা ছাড়েনি।

চা বোর্ডের হিসাবে, ভাড়া বাবদ প্রতিষ্ঠানটি থেকে চা বোর্ড প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। গত প্রায় চার বছরে একাধিকবার লিখিত নোটিশ দেওয়া হলেও বকেয়া পরিশোধ বা জায়গা ছাড়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টো চা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের ১ জুন উচ্চ আদালত এক মাসের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেন। তবে আদালতের আদেশের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

এদিকে আরএসআরএম গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। ঋণের ভার, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকটে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গ্রুপটির দুটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মেসার্স রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড—যা আরএসআরএম নামে পরিচিত—একসময় বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ব্যবসা করত। এতে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৮০০ শ্রমিক।

বর্তমানে গ্রুপটির কাছে ১০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ আটকে রয়েছে। এসব ঋণ আদায়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০টি মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় গ্রুপটির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জব্দ, সম্পত্তি নিলামসহ বিভিন্ন আদেশ রয়েছে আদালতের।

গ্রুপটির কাছে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে জনতা ব্যাংক লালদীঘি শাখা। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক পাওনা রয়েছে ৬৬৩ কোটি টাকা। এই দুই ব্যাংক ছাড়াও গ্রুপটির রতনপুর শিপ রিসাইক্লিংয়ের কাছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পাবে ১৫০ কোটি, একই প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৫৬ কোটি, মেসার্স মডার্ন স্টিল রি-রোলিংয়ের কাছে ট্রাস্ট ব্যাংক ৬০ কোটি, এসএম স্টিল রি-রোলিংয়ের কাছে লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ৫৫ কোটি ও একই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রাইম ফাইন্যান্স ২৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর করা মামলায় গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাকসুদুর রহমান, চেয়ারম্যান শামসুন নাহার রহমান, এমডির সহোদর ইউনুস ভূঁইয়া, দুই ছেলে মিজানুর রহমান ও মারজানুর রহমান, মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আলা উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে আরএসআরএম গ্রুপের পরিচালক মারজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যদি বদলাতে হয় তখন, বিসিবিকে তামিমের প্রশ্ন

ঋণখেলাপিতে আটকে যেতে পারেন কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল

তরুণ অফিসাররা র‍্যাব থেকে এমন চরিত্র নিয়ে ফিরত যেন পেশাদার খুনি: ইকবাল করিম ভূঁইয়া

সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে ইরানিদের বিক্ষোভ, ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে

আইসিসিকে নতুন করে চিঠিতে কী লিখেছে বিসিবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত