
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, উপজেলার অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিওর উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় আরও খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন। তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী—পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, গণ্ডামারা, শীলকূপ, পৌরসভা এলাকা, সরল, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, খানখানাবাদ, বাহারছড়া ও পুকুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫০০টি কাঁচা বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, গণ্ডামারা, বাহারছড়া, খানখানাবাদ এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা।

সমাজকর্মী কলিম উল্লাহ মিসবাহ বলেন, টানা বৃষ্টি, অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি প্রবেশ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁশখালীর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ মাটির ঘর ধসে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
স্থানীয় একটি এনজিওর কর্মী কল্যাণ বড়ুয়া জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ৫০০টি কাঁচা বসতঘর, দুই শতাধিক দোকানপাট এবং অর্ধশতাধিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বাঁশখালীর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অসংখ্য বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের সবজি খেত ও বীজতলাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

একসময় ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছের নিরাপদ আবাস হিসেবে পরিচিত ছিল বরগুনার বলেশ্বর, পায়রা ও বিষখালী নদী। কিন্তু এখন নিয়ন্ত্রণহীন প্লাস্টিকদূষণের ভয়াবহ থাবায় বিপর্যস্ত তিন নদ-নদী। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারগুলো থেকে প্রতিদিন পলিথিন, থার্মোকল, কর্কশিটসহ বিভিন্ন প্লাস্টিক...
৪ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীর দুর্গাপুরে করলাচাষিরা এবার চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, মাঠভরা করলা, কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম মিলছে না। হতাশ কৃষকেরা ফলন্ত গাছ কেটে ফেলছেন, আবার কেউ বিক্রি না হওয়া করলা হাট-বাজার ও রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
টানা বর্ষণের জেরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঁধের সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৩০ হাজার বাসিন্দা নতুন করে পানিবন্দী হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গাজীখালী নদী দুই দফায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দে পুনঃখনন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও নদীর অধিকাংশ অংশে পানি নেই, কোথাও কোথাও এমন ঘন কচুরিপানা জন্মেছে যে পানির অস্তিত্বই চোখে পড়ে না।
৬ ঘণ্টা আগে